বাঘারপাড়ায় মাদরাসা কর্মচারীর বস্তাবন্দি লাশ

আপডেট: 03:50:39 11/05/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টারবাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের বাঘারপাড়ায় আসাদুজ্জামান আসাদ (৫০) নামে এক মাদরাসা কর্মচারীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হয়েছে। গলা কেটে ও মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে বাঘারপাড়ার নারিকেলবাড়িয়া চিত্রা নদীর পাশে শ্মশানঘাট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজনদের দাবি, গত মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে তুলে নিয়ে খুন করে। পরে লাশটি বস্তায় পুরে শ্মশানঘাটে ফেলে রেখে যায়।
নিহত আসাদ আসাদ নারিকেলবাড়িয়া পশ্চিমা মাদসার কেরানি ছিলেন। তিনি পশ্চিমা গ্রামের ইসহাক মোল্লার ছেলে। মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
নিহতের চাচাতো ভাই কুদ্দুস হোসেন সুবর্ণভূমিকে জানান, পশ্চিমা গ্রামের তনাইয়ের স্ত্রী ও রসুলের স্ত্রীর সঙ্গে আসাদের পরকীয়া ছিল। এই নিয়ে এলাকায় ঝামেলা চলছিল। গত মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে আসাদ নারিকেলবাড়িয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দত্তপাড়া রাস্তা থেকে অপহৃত হন। এরপর তার ব্যবহৃত বাইসাইকেলটি পশ্চিমা পাকা রাস্তার মোড়ে পাওয়া যায়। কিন্তু তার সন্ধান মেলেনি। বাঘারপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় পরদিন বুধবার । পুলিশ ওই দিন রাতে তনাইয়ের স্ত্রী, রসুলের স্ত্রীসহ তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু পরে তাদের ছেড়েও দেয়।
চাচাতো ভাই নাজিম হোসেন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আসাদের সাথে একই গ্রামের তনাইয়ের স্ত্রী ও রসুলের স্ত্রীর পরকীয়া প্রেম ছিল। এনিয়ে একবার ঝামেলাও হয়েছে। আমাদের ধারণা, ওই দুই প্রেমিকাই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। তারা লোকজন দিয়ে আসাদকে হত্যা করিয়েছে। অপহরণের অভিযোগ দিলে পুলিশ তনাইয়ের স্ত্রী, রসুলের স্ত্রী এবং নাজিম নামে একজনকে আটক করেছিল। পরে টাকা খেয়ে তাদের ছেড়েও দেয়।’
বাঘারপাড়া থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) ওহেদুজামান সুবর্ণভূমিকে বলেন, খবর পেয়ে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আসাদের গলা কাটা। মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি জানান, গত ৮ মে রাতে দুর্বৃত্ত আসাদকে অপহরণ করে। ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েলি ঘটনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বাঘারপাড়া থানার ওসি মনজুরুল আলম সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আসাদ কী কারণে খুন হয়েছে তা এই মুহূর্তে বলা কঠিন। তবে তার চরিত্র ভালো ছিল না। দুইজন মহিলার সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। চাচাতো ভাইদের সাথে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এ ছাড়াও সে ছিল মাদকাসক্ত। সব কিছু মাথায় রেখে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এক প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘তিনজনকে থানায় ডেকে এনেছিলাম। তারা এই ঘটনার সাথে জড়িত মনে হয়নি। তাই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি। ওই দুই মহিলা বাড়িতে থাকলেও পুলিশের নজরেই আছে।’
‘এ ছাড়া তনাইয়ের ছেলে তন্ময়কে আটক করা হয়েছে। সে থানায়ই আছে,’ বলছিলেন ওসি।

আরও পড়ুন