বাঘারপাড়ায় ‘এমপি গ্রুপের’ সন্ত্রাস, হাসপাতালে ১১

আপডেট: 06:51:20 05/12/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের বাঘারপাড়ায় সন্ত্রাসী হামলায় ১৫-২০ জন আহ হয়েছেন। এদের মধ্যে নারীসহ ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, এমপি সমর্থিত সন্ত্রাসীরা এই হামলায় জড়িত।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে উপজেলার ছাতিয়ানতলা দাখিল মাদরাসার মাঠে।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমরা যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নাজমুল ইসলাম কাজলের নেতৃত্বে রাজনীতি করি। বর্তমান এমপি রনজিৎ বাবুর সমর্থিত জামাত-বিএনপি থেকে আসা মাসুদ ও ইলিয়াস আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন জুলুম শুরু করেছে। রনজিৎ বাবু নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় আমাদের ভেতরে রাগ ক্ষোভ অভিমান আছে। আমরা এখনো নির্বাচনের কাজে যোগ দেইনি। এই কারণে এমপির নির্দেশে মাসুদের নেতৃত্বে আমাদের ২০-২৫ জনকে মারপিট করে গুরুতর আহত করা হয়েছে।’
ছাতিয়ানতলা দাখিল মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জালাল উদ্দিন সুবর্ণভূমিকে বলেন, আজ বেলা ১২টার দিকে মাদরাসার সংস্কার কাজের জন্য ম্যানেজিং কমিটির বৈঠক চলছিল। এসময় মাসুদের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন আমার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। আমি দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মাসুদ আমাকে বলে, মাদরাসার কোনো কাজ হবে না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমার ওপর হামলা করে। এসময় আমার বোন হাজেরা, ভাই নুরু, চাচাতো ভাই হিরু, জাহানারা, জামান, ইলিয়াস, রফিকুল, আরাফাত, শিউলি ঠেকাতে আসে। সন্ত্রাসীরা লোহার রড এবং হকিস্টিক দিয়ে তাদেরও মারপিট করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের মধ্যে আটজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। আর তিনজনকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।’
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডক্তার কলে­ালকুমার সাহা একই বিভাগের ডাক্তার আহম্মেদ তারেক শামসের উদ্ধৃতি দিয়ে সুবর্ণভূমিকে বলেন, আহতদের মধ্যে জাহানারা ও হাজেরা বেগমের অবস্থা আশংকাজনক।
বাঘারপাড়া থানার ওসি জসিমউদ্দিন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে বলে শুনেছি। খবর শুনে যশোর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে আটজনকে ভর্তি অবস্থায় দেখেছি। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত মাসুদ হোসেন বলেন, ‘আমি ছাতিয়ানতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং দরাজহাট ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগ সভাপতি। আমি আওয়ামী পরিবারের লোক। প্রতিপক্ষের অভিযোগ সঠিক নয়। মূলত রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে মারপিটের ঘটনা ঘটেনি। দাখিল মাদরাসার সংস্কারের কাজের জন্য ম্যানেজিং কমিটির মিটিং চলছিল। মিটিংয়ে কমিটির অন্য সদস্যরা মাদরাসার একটি জমি বছরে ৯০ হাজার টাকায় লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সভাপতি জালাল উদ্দিন দশ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এই নিয়ে বিরোধে দুই পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় আমাদের তিনজন বাঘারপাড়া হাসপাতালে ভর্তি আছে।’
ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত না বলে দাবি করেন।