বাসটারমিনাল ভাগাড় বা গরুর খামার

আপডেট: 02:26:07 12/10/2018



img
img

মৌসুমী নিলু, নড়াইল : নড়াইল বাসটারমিনাল থেকে ছয়টি রুটের কোনোটিতেই যাত্রীবাহী বাস ছাড়া হয় না। বর্তমানে এখানে সামান্য কিছু বাস পার্কিং করে রাখা হয়। জেলায় কোনো ট্রাকস্ট্যান্ড না থাকায় বালিভর্তি ও খালি ট্রাক এখানে পার্কিং এবং বালি বেচা-কেনা হয়।
বিপরীতে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বাসে যাত্রী ওঠানো নামানো এবং যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘ ছয় বছর ধরে টারমিনালের প্রবেশমুখের একটি বড় গর্তে নড়াইল পৌর এলাকার নিত্য দিনের ময়লা ফেলা হচ্ছে। ফলে এর দুর্গন্ধে টারমিনালে আসা লোকজন টিকতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে টারমিনালটি অব্যবহৃত থাকায় এটি ব্যবহারেও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
নড়াইল পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে শহর থেকে আধা কিলোমিটার দূরে নড়াইল-যশোর সড়ক-লাগোয়া মৎস্য অফিসের পশ্চিম পাশে ২০০৫ সালে নতুন বাসটারমিনাল নির্মাণ করা হয়। এখান থেকে নড়াইল-মাইজপাড়া, নড়াইল-শংকরপাশা, নড়াইল-কালিয়া, নড়াইল-মাগুরা, নড়াইল-যশোর ও নড়াইল খুলনা রুটে বাস ছাড়া হতো। টারমিনালকে কেন্দ্র করে অর্ধ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। দুই বছর যেতে না যেতেই এটি ব্যবহারে বাস মালিক ও শ্রমিক পক্ষের নেতিবাচক মনোভাব, টারমিনাল সংস্কারের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে গত দশ বছর ধরে এটির ব্যবহার বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টারমিনালের মূল ভবনের বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল ধরতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন রং না করায় ভবনটিও বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। গাড়ি পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট জায়গায় ছোট-বড় গর্ত হয়ে গেছে। টারমিনালের ভেতরে কয়েকটি নষ্ট বাস-ট্রাকের রিপিয়ারের কাজ করা হচ্ছে। ভেতরে বিভিন্ন স্থানে গরু চরানো হচ্ছে। টারমিনালের ভেতরে মূল গেটের সামনে বর্জ্য ফেলছেন পৌরসভার কয়েক পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।
বাস চালক মো. রওশন আলী জানান, ‘আমি প্রতিদিন জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে মেইন রোডের পাশে গাড়ি পার্কিং করি। বাসটারমিনালে দুর্গন্ধে যাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে অবৈধ পার্কিং করি।’
শহরের তুলি আর্ট এবং ডিজিটাল প্রিন্ট হাউজের মালিক মিঠুনকুমার জানান, তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সামনে সবসময় ৩-৪টি বাস অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়। এতে তার মতো অনেক ব্যবসায়ীর আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তার দাবি, বাস-ট্রাক নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হোক।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘স্বাবলম্বী’র নির্বাহী পরিচালক কাজী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাসটারমিনালের সামনে ময়লা ফেলায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আবার এটি ব্যবহার না করায় আরো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দ্রুত টারমিনালটি ব্যবহার উপযোগী ও চালু করে শহরকে যানজটমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক নেতা তাপস মিনা বলছেন, নতুন টারমিনালটি শহর থেকে একটু দূরে হওয়ার কারণে যাত্রীরা সেখানে যেতে চান না। ফলে টারমিনাল থেকে অনেকটা যাত্রী ছাড়াই বাস ছাড়তে হয়। মালিক পক্ষ এটাকে লস মনে করেন। এছাড়া এখানে শ্রমিকদের থাকা ও খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা নেই।
জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী জহিরুল হক দাবি করেন, টারমিনালে কোনো নিরাপত্তা নেই। অনেকে ট্রাকে বালির ব্যবসা করেন। টারমিনালের প্রবেশমুখে পৌরসভা ময়লা ফেলে। সংস্কারের অভাবে এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব বিষয় নড়াইল পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, টারমিনালটি শহর থেকে একটু দূরে ও এক পাশে হওয়ায় যাত্রীরা এখানে যেতে চান না। বাইপাস সড়কও নেই। তারপরেও টারমিনালটি ব্যবহারের উপযোগী এবং সবাই আন্তরিক হলে এটি আবার চালু করা যেতে পারে।
নড়াইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র রেজাউল বিশ্বাস বলেন, ‘টারমিনাল চালু থাকলেও বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের স্বার্থগত কারণে সেখানে যায় না। শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা বাস ছাড়ার ব্যবস্থা করে থাকে।’
নড়াইল পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন, টারমিনালটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য একটি প্রকল্পও তৈরি করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছর আর্থিক সহায়তা পেলে সব সমস্যার সমাধান হবে। এছাড়া পৌরসভার ময়লা ফেলার জন্য নতুন জায়গা খোঁজা হচ্ছে। দ্রুতই নতুন স্থান নির্ধারণ করে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন