বাড়ি ফিরেছে মুক্তামণি

আপডেট: 01:45:10 23/12/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ‘আমার হাত আগের চেয়ে ভার লাগে। জ্বালা-পোড়া করে। হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়েছে। আমি চলে যাচ্ছি, আপনারা দোয়া করবেন।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি যাওয়ার পথে রক্তনালির টিউমারে আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী শিশু মুক্তামণি এসব কথা বলেছে।
মুক্তামণির বাবা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘ওর (মুক্তামণি) হাত ফুলে যাচ্ছে। ভালো তেমন হচ্ছে না। হাতে কোনো অনুভূতি পাচ্ছে না। ডাক্তারা দীর্ঘ ছয় মাস চেষ্টা করেছেন। হাতের ওজন তিন থেকে চার কেজি ছিল। যা আগের মতোই। তেমন উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকরা বলেছেন, দুই বছর সময় লাগবে। হাতে আগে গন্ধ হতো এবং পোকা হতো। তা এখন হচ্ছে না। আল্লার ওপর ভরসা। বাড়ি যাচ্ছি, দোয়া করবেন। মেয়েও বাড়ি যাওয়ার জন্য উৎগ্রীব ছিল। তাই বাড়ি যাচ্ছি। ২১ ডিসেম্বর তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, ডাক্তাররা ওকে ছাড়পত্র দিয়েছেন। ওষুধ লিখে দিয়েছেন। অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য দশ হাজার টাকা দিয়েছেন।
মুক্তামণির বাবা জানান, সাতটার দিকে সাতক্ষীরার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তারা। একমাস পর আবারও চেকআপের জন্য আসতে বলেছেন।
এর আগে গত সোমবার মেডিকেল বোর্ড বসে মুক্তামণিকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্তলাল সেন বলেন, ‘মুক্তামণি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়নি। সে গত কয়েকদিন ধরে বাড়ি যাওয়ার জন্য পাগল হয়ে গেছে। এজন্য কয়েক দিনের জন্য রিলিজ দেওয়া হয়েছে। আমরা মুক্তামণির বাবাকে আমাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছি। সে আবার আসবে।’
মুক্তামণির বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কামার বায়েশা গ্রামে। এ বছরের ১২ জুলাই ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাকে। বার্ন ইউনিটের ৬০৮ নম্বর কেবিনে ছিল মুক্তামণি। প্রথমে তার রোগটিকে বিরল রোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে বায়োপসি করে জানা যায়, তার রক্তনালীতে টিউমার হয়েছে। তখন তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা। মুক্তামণির সব রিপোর্ট দেখে তারা চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ঢামেকের চিকিৎসকরাই তার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। তার চিকিৎসার সব ধরনের খরচের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মুক্তামণির হাতে ১২ আগস্ট প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়। তার হাতের ফোলা অংশ ফেলে দেন চিকিৎসকরা। পরে দুই পায়ের চামড়া নিয়ে দুই দফায় তার হাতে লাগানো হয়। ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালামের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ একদল চিকিৎসক মুক্তামণির স্কিন গ্রাফটিংয়ে (চামড়া লাগানোর অপারেশন) অংশ নেন। পরে তার হাত আবার ফুলে যাওয়ায় ফোলা কমানোর উদ্দেশ্যে হাতে প্রেসার ব্যান্ডেজ বেঁধে দেওয়া হয়।
মুক্তামণিকে কয়েক দফায় বার্ন ইউনিটের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। প্রথম অপারেশনের পর ডা. সামন্তলাল সেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তাকে সুস্থ করা আরো দীর্ঘদিনের ব্যাপার কেননা দেরির কারণে তার শরীরের আরো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি আক্রান্ত হাতটি ফেলে দেওয়ার আশঙ্কা ছিল। মুক্তামণি পুরো সেরে উঠবে কি না সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত নন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার হাতের টিউমারটা সরানো তার চিকিৎসার প্রথম স্টেজ। এখনো অনেকদূর যেতে হবে। অসুখটা শুধু তার হাতে না। হাতের টিউমার একটি বিষয় ছিল। তাকে অনেকদিন ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। টিউমার কেটে চামড়া দিয়ে হাত কভার করলেই অসুখটি চলে যাবে তা বলা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কাছে এই অসুখ নিয়ে অনেকেই আসে। কিন্তু ওকে নিয়ে আসতে বড্ড দেরি হয়ে গেছে।’
সূত্র : মানবজমিন

আরও পড়ুন