বিএনপি-জামায়াতের ৪৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা

আপডেট: 09:51:05 12/09/2018



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছা উপজেলার বিএনপি-জামায়াতের ৪৬ নেতাকর্মীর নামে আবারো নাশকতার মামলা দিয়েছে পুলিশ। আসামিদের মধ্য উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নানকে আটক করেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, থানার এসআই জামাল হোসেন বাদী হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর রাত দুইটা ১৫ মিনিটের সময় মামলাটি দায়ের করেন। চৌগাছা থানার মামলা নম্বর ১০/২৪৭।
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পাতিবিলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও পাশাপোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও চৌগাছা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক ও সিংহঝুলি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুচ আলী দফাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান, ধুলিয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজিবর রহমান, স্বরুপদাহ ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, হাকিমপুর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, নারায়ণপুর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম ভোদড়, জগদীশপুর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ লতা, একই ইউনিয়নের জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রওশন জামিল, পাতিবিলা ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমান, স্বরুপদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হবিবর রহমান মেম্বর ।
এছাড়া বিএনপি নেতা নিয়ামতপুর গ্রামের মজনু মেম্বার, চাঁদপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম, চৌগাছা বিশ্বাসপাড়ার হীরা বিশ্বাস, যাত্রাপুর গ্রামের ফারুক হোসেন, তাহেরপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ, পুড়াপাড়া বাজারের মিলন, সৈয়দপুর গ্রামের আলাউদ্দিন, বাদেখানপুর গ্রামের মজনুর রহমান, হাজরাখানা গ্রামের মিজানুর রহমান, হোগলডাঙ্গা গ্রামের আলী আহম্মদ, আড়কান্দি গ্রামের মহিদুল ইসলাম, আড়পাড়া গ্রামের আব্দুল মমিন, ফতেপুর গ্রামের আব্দুল মেম্বর, আজমতপুর গ্রামের শামনুর মাস্টার ও ভদু,শাহাজাদপুর গ্রামের আব্দুল খালেক, খড়িঞ্চা গ্রামের শফি উদ্দিন, মমিনুর রহমান, আব্দুল ওহাব ঝন্টু, স্বরুপদাহ গ্রামের বাবু মেম্বর, আন্দারকোটা গ্রামের মন্টু মিয়া, বহিলাপোতা গ্রামের শফি উদ্দিন, মাধবপুর গ্রামের আমিনুর ডাক্তার, স্বর্পরাজপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ ও চৌগাছা গ্রামের আব্দুল হালিমকেও আসামি করা হয়েছে।
জামায়াত নেতাদের মধ্যে আরো যারা আসামি হয়েছেন তারা হলেন, খড়িঞ্চা গ্রামের সাবেক মেম্বার আব্দুল মজিদ, গুয়াতলী গ্রামের সবুর উদ্দিন ও ফজর আলী এবং নিয়ামতপুর গ্রামের ডাক্তার নাসির উদ্দিন।
আসামিদের মধ্যে যুবদল নেতা আব্দুল মান্নানকে বুধবার দুপুরে পুলিশ আটক করে আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী এসআই জামাল হোসেন এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা দাখিল মাদরাসার মাঠে সমাবেশ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছিল। এসময় পুলিশ এসে পড়লে তারা পালিয়ে যায়। পুলিশ বৈদ্যুতিক আলোর সাহায্যে সকল আসামিকে চিনে ফেলে। পুলিশ এসময় ঘটনাস্থল থেকে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর লেখা চারটি ‘জিহাদি বই’, ৫৫টি সরকারবিরোধী লিফলেট, দুটি কালো টেপ দিয়ে জড়ানো বোমা, টিনের কৌটা, ৩৭টি জালের কাঠি ও কিছু গোড়া পাটের সুতালি উদ্ধার করে।
মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইউনুচ আলী দফাদার, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদ জানান, অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা। তারা অন্তত দশ বছরের মধ্যে খড়িঞ্চা দাখিল মাদরাসায় কোনো মিটিং করেননি।
নেতারা বলছেন, তারা একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, বানচালের চেষ্টা করছেন না। পুলিশের উর্বর মস্তিষ্ক এ মামলা তৈরি করেছে।
এদিকে, মামলার এজাহারে পুলিশ খড়িঞ্চা গ্রামের শ্রীরণজিৎ হালদার, মো. রহিম ও সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রামের বিএম আইন আলীকে সাক্ষী করেছে। এসব সাক্ষীদের সঙ্গে আসামি ও এলাকার মানুষ কথা বললে তারা ঘটনার ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেন। বলেন, তারা কীভাবে সাক্ষী হলেন, তাও জানেন না।

আরও পড়ুন