বিদেশিনী বধূর ছাদে টমেটোর সফল চাষ

আপডেট: 03:56:55 03/12/2016



img
img

চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর) : টমেটো। জনপ্রিয় এ সবজির কদর বেশ। আমাদের দেশে এখন ব্যাপক হারে এর চাষ হয়ে থাকে। টমেটো মূলত শীতকালীন সবজি হলেও গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে এর চাষাবাদ শুরু হয়েছে বেশ আগে থেকেই। স্বল্প পরিসরে আর কম পরিশ্রমে বসতবাড়ির ছাদেও যে টমেটোর চাষ করা যায়, তার দৃষ্টান্ত রেখেছেন বাঘারপাড়া উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের এক দম্পতি। তাদের সফলতা দেখতে প্রতিদিনই ভীড় করছেন গ্রামবাসী। সম্প্রতি ঘুরে গেছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও।
চণ্ডীপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান ইমদাদুল হক পান্নু দীর্ঘ ২৩ বছর বিদেশ বিভূঁইয়ে কাটিয়ে বছর আটেক হলো দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘ এসময় তিনি দুবাইতে পাঁচ আর মালয়েশিয়ায় ১৮ বছর থেকেছেন। মালয়েশিয়ায় একটি এসি কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে পরিচয় ঘটে মাছনিয়া নামে ইন্দোনেশিয়ার এক তরুণীর সঙ্গে। পরিচয় থেকে ঘটে পরিণয়। মাছনিয়া এখন পান্নুর সহধর্মিনী। বিদেশিনী হলেও বাঙালি স্বামীর কাছ থেকে রপ্ত করে নিয়েছেন বাংলা ভাষা। ৩৭ বছরের মাছনিয়া এখন বাংলায় কথা বলেন বেশ। ব্যতিক্রমী চিন্তাধারার এই নারীর মাথা থেকেই প্রথমে আসে ছাদে চাষাবাদ করার ভাবনা।
ইমদাদুল হক পান্নু জানান, গেল বছর তার বিদেশিনী বধূ মাছনিয়া টমেটোর বীজ সংগ্রহ করে প্রথমে ২০ চাড়িতে (মাটির তৈরি পাত্র) চাষ করেন। ফলন ভালো হওয়ায় দুজন মিলে এবছর আরও ৬০টি চাড়িতে টমেটো চাষ শুরু করেন। গত দশ মাসে মোট ২০ মণ টমেটো বাজারে বিক্রি করেছেন তারা।
পান্নু বলেন, ‘টমেটো চাষে বেশি পরিশ্রম করতে হয় না। আমরা কোনো রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ করি না। গত দশ মাসে মাত্র দুই বার হরমোন স্প্রে করেছি। বলা যায় কম পরিশ্রমে বেশি লাভ।’
তিনি জানান, সপ্তাহে দুইবার টমেটো তুলে স্থানীয় খাজুরা হাটে তা বিক্রি করেন। গেল হাটে ৬৫ টাকা কেজি দরে টমেটো বিক্রি করেছেন বলেও জানান তিনি।
সদা হাস্যোজ্জ্বল ভীনদেশি গৃহবধূ মাছনিয়া বলেন, ‘চাচাবাদ করতে বালো লাগে। তাছাড়া ছংসার ছচ্ছল হয়।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল আলম বলেন, ‘আমরা দেখেছি। কৃষক দম্পতির এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ব্যাপারে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছি।’
গ্রামের অনেকেই বললেন, পান্নু-মাছনিয়ার কাজ তাদের অনুপ্রাণিত করছে ছাদে সবজি আবাদের।

আরও পড়ুন