বিদ্যুতের তিন প্রকৌশলীসহ পাঁচজন পাকড়াও

আপডেট: 07:34:14 08/05/2019



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে টাকা নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ায় বিদ্যুতের তিন ইঞ্জিনিয়ার ও এক লাইনম্যানকে আটক করে রাখেন স্থানীয় লোকজন। এসময় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) এক গাড়িচালক কৌশলে পালিয়ে যান।  প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। 
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর শহরের কারবালা মসজিদের পশ্চিম পাশে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা পাকড়াও করে ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা, ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন, লাইনম্যান জালাল ফকির ও গাড়িচালক জিয়াউর রহমানকে।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম সুবর্ণভূমিকে বলেন, 'মঙ্গলবার দুপুরের পরে রাস্তার বিদ্যুতের মেইন লাইনের সমস্যার কারণে এলাকার অনেক বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।  আমার তিনতলা বাড়ি এবং একটি দোকানে মোট তিনটি লাইন। সেই লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে লাইনম্যান জালাল ফকিরকে আড়াই হাজার টাকা দেই।  কিন্তু সে টাকা নিয়ে লাইন না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে আরো টাকার জন্য।  এভাবে ২০-২২ জনের কাছ থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার করে টাকা নিয়েছে।  পরে স্থানীয়রা সংঘবদ্ধভাবে চাপ দিলে তারা লাইন দিতে বাধ্য হয়।  তবে যারা টাকা দিতে পারেনি তাদের এখনো সংযোগ দেওয়া হয়নি।  সেই কারণে লোকজন তাদের ঘণ্টা দেড়েক আটক করে রাখে।'
এলাকার বাসিন্দা জুয়েল, খোকন, তরিকুল ইসলাম, রোকন ব্যাপারীসহ আরো কিছু লোক বলেন, তারা সবাই টাকা দিয়েছেন।  এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন জালাল ফকির।  তবু বিদ্যুৎ লাইন দেওয়া হয়নি।  সেকারণে তাদের আটকে রাখা হয়।
জানতে চাইলে লাইনম্যান জালাল ফকির সুবর্ণভূমিকে বলেন, 'আমি লোকজনের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিইনি।  নজরুল ইসলামের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা নিয়েছি।  লাইন দিলে কেউ খুশি হয়ে ২০০-৫০০ টাকা দেয়- এটা তো কাজ করেই নিই।  সব মিলিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা হবে।'
জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা, ইঞ্জিনিয়ার নাসিরউদ্দিন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ডিসলাইনের কারণে ওখানে ১১টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।  মঙ্গলবার রাতে আটটি লাইনে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।  তিন লাইনের সংযোগ নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়।  লাইনম্যান জালাল ফকিরের বিষয়ে তারা বলেন, গরিব মানুষ, নিউজ করার দরকার নেই।  নিউজ হলে তার চাকরি চলে যেতে পারে।
কোতয়ালী থানার এসআই ইকবাল মাহমুদ বলেন, 'খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, তাদের আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়।'
ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম সুবর্ণভূমিকে বলেন, 'ঘটনাটি শুনেছি।  ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠনের কথা বলেছি। তাদের রিপোর্ট পেলে পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আরও পড়ুন