বিনাচিকিৎসায় কাতরাচ্ছেন ঝলসে যাওয়া বধূ

আপডেট: 09:30:54 09/08/2018



img
img

কাজী মৃদুল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) : স্বামীর ছুড়ে মারা গরম পানিতে ঝলসে যাওয়া শরীর নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রেহেনা খাতুন। টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসাও নিতে পারছেন না এই অসহায় বধূ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সুয়াদী গ্রামের মিনাজ উদ্দীন বিশ্বাসের মেয়ে রেহেনা খাতুন (৩৫)। তার সঙ্গে প্রায় ১৮ বছর আগে মহেশপুর উপজেলার কুসুমপুর গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে মাইক্রোবাসচালক আলম হোসেনের (৪০) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় যৌতুকের কোনো দাবি-দাওয়া ছিল না। তবে মিনাজ উদ্দীন গরিব হলেও মেয়ের সুখের জন্য কয়েক দফায় প্রায় দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র দেন।
অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামী আলম ড্রাইভার যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রেহেনার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। মেয়েকে নির্যাতন থেকে রক্ষার জন্য ১৮ বছরে বিভিন্ন সময়ে জামাই আলমের হাতে নগদ এক লাখ ১৫ হাজার টাকা তুলে দেন মিনাজ উদ্দীন। এর পরও স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতন থামেনি।
রেহেনা সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘সম্প্রতি বাবার কাছ থেকে জমি বিক্রি করে টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্বামী আলম বায়না ধরে। এতে অস্বীকৃতি জানাই। আমার ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। গত ২৭ জুলাই বিকেলে ঠুনকো বিষয় নিয়ে আলম আমাকে বেদম মারপিট করে প্রায় অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখে। পরে চায়ের জন্য চুলায় থাকা গরম পানি এনে আমার শরীরে ঢেলে দেয়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে আমাকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করে।’
রেহেনা জানান, খবর পেয়ে তার ভাই শফিকুল ইসলাম জীবননগর হাসপাতালে ছুটে যান। বোনের করুণ অবস্থা দেখে পরের দিন রেহেনাকে তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলা হাসপাতালে আনেন। এখানে একদিন থাকার পর ডাক্তারের পরামর্শে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রেহেনার ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, বোনের চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকায় দেরিতে (গত ২ আগস্ট) মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বোনকে কয়েকদিন হাসপাতালে রাখতে পেরেছি। গরিব মানুষ। টাকা-পয়সা নেই। তাই চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়িতে আনতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি, বোনের অবস্থা খুবই খারাপ।’
তিনি বোনের এমন পরিণতির জন্য ভগ্নিপতি আলমের সর্বোচ্চ শাস্তি চান।
অভিযুক্ত আলম সম্পর্কে তার বাবা সোনা মিয়া বলেন, ‘এ ঘটনার দুই দিন আগে ছেলে আলম আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এখন আমি মেয়ের বাড়িতে রয়েছি। ঘটনা শুনে বৌমাকে দেখার জন্য কোটচাঁদপুর হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলাম।’
‘আমার কিছুই করার নেই। ছেলের কাছে আমি অসহায়,’ বলছিলেন বৃদ্ধ সোনা মিয়া।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশপুর থানার এসআই রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অভিযোগটি পাওয়ার সাথে সাথে আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করতে পেরেছি। বাকিরা পলাতক রয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন