বিপাকে মাগুরার চামড়া ব্যবসায়ীরা

আপডেট: 03:13:20 04/09/2017



img

শিমুল হাসান, মাগুরা : দরপতন ও লবণ সংকটের কারণে কাঁচা চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মাগুরার ব্যবসায়ীরা। শুধু ব্যবসায়ী নন, এ সংকটে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে জড়িত শ্রমিকেরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এবছর মাগুরা জেলায় অর্ধলক্ষাধিক গরু ও ছাগল কুরবানি হয়েছে। কিন্তু গত বছরের চেয়ে এবছর চামড়ার দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। লবণ সংকট ও লবণের দাম বাড়ার কারণে আড়তদাররা এ বছর চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছেন। যে কারণে সাধারণ বিক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়েছেন।
বিক্রেতারা বলছেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর চামড়ার দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে।
শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকার আলী হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘গত বছর  যে গরুর চামড়া এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবছর তা ৭০০ থেকে এক হাজার  টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।’
মঘি এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমজেদ আলী বলেন, ‘চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে প্রয়োজনীয় লবণের সংকট ও দাম বাড়ার কারণে বড় ব্যবসায়ী বা আড়তদাররা চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছেন। গ্রাম এলাকা থেকে চামড়া কিনে অনেক ছোট ব্যবসায়ী আড়তে এনে বাকিতেও বিক্রি করতে পারছেন না।’
চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে জড়িত দুই শ্রমিক শহিদুল ও পরেশ দাস জানান, লবণের অভাবে তারা কাজ করতে পারছেন না। যে কারণে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছেন। যারা কাজ করছেন লবণের দাম বাড়া ও চামড়ার  দরপতনের কথা বলে মহাজনরা ঠিকমতো তাদের মজুরি দিচ্ছেন না।
বাবু মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা ট্যানারি মালিকদের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনেছি। তবে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে প্রয়োজনীয় লবণ বস্তাপ্রতি এক হাজার ১০০ টাকার স্থলে এক হাজার ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অনেক সময় বাড়তি দামেও লবণ মিলছে না। যে কারণে  চামড়া কিনে আমরা লবণের অভাবে সঠিকভাবে তা মজুদ করতে পারছি না।’
মাগুরা জেলা চেম্বার অব কমার্সের অন্যতম পরিচালক আনিসুর রহমান খোকন বলেন, ‘লবণের দাম বৃদ্ধির জন্য চামড়ার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। এ জন্য ক্রেতা-বিক্রেতা, ব্যবসায়ী সবাই সংকটের মধ্যে পড়েছেন। লবণের দাম কমানো ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সরকারের সঠিক দিকনির্দেশনার দাবি জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন