বেতারের ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’ যশোরে ধারণ

আপডেট: 03:34:48 05/05/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ বেতার ঢাকার নিয়মিত আয়োজন ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’র বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠানের ৩১তম পর্ব ধারণ করা হলো যশোরে।
শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় স্থানীয় সম্মিলনী ইন্সটিটিউশনে তিনটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনেরা বাল্যবিয়ের কুফল, কারণ ও এর প্রতিকারে করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরে। পরে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেয় এবং বিষয়ভিত্তিক নাটিকা ও গান পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠান ধারণকালে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। ধারণকৃত এই অনুষ্ঠান ১২ মে শনিবার রাত আটটা দশ মিনিটে বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হবে।
বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা কেন্দ্রের জনসংখ্যা স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক সেলের প্রযোজক সজীব দত্তর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. মোল্লা আমির হোসেন, যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হুসাইন শওকত, বাংলাদেশ বেতারের যশোর প্রতিনিধি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি শ্রাবণী সুর, ড. আব্দুর রাজ্জাক কলেজের সহকারী শিক্ষক শাহিদা আক্তার এবং সম্মিলনী ইন্সটিটিউশনের সহকারী শিক্ষক চঞ্চল সরকার।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হুসাইন শওকত বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের শতকরা ৬৬ ভাগ নারী বাল্যবিয়ের শিকার। ২০১৫ সালে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়াদের মধ্যে প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। এরমধ্যে দুই লাখ নারী। ধারণা করা হয়, এদের অধিকাংশেরই বাল্যবিবাহ হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণে বাল্যবিবাহ রোধ করা যাচ্ছে না।
শিক্ষা বোর্ড সচিব ড. মোল্লা আমির হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ে সামাজিক শোষণ ও মানবতার চরম বরখেলাপ। এটা একটা ব্যাধি। এর থেকে মুক্তি ছাড়া বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা যাবে না।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলে, সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, যৌন হয়রানি, দারিদ্র্য, অসচেতনতা ইত্যাদি কারণে পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের বাল্যবিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এটার শিকার শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। পরিবার, সমাজ ও দেশকে দেওয়ার আর তার তেমন কিছু থাকে না। এ কারণে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। এজন্য প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেয় শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে নিজেরাও বাল্যবিবাহ না করার শপথ গ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলো, যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের চন্দ্রিমা সরকার চৈতি, উম্মে ইফফাত জাহান, আব্দুর রাজ্জাক কলেজের নাতাশা আরফিন, আনিকা আক্তার বৃষ্টি, তামিমা ইয়াসমিন এবং সম্মিলনী ইন্সটিটিউশনের মো. সাইদুর রহমান ও অর্থ বিশ্বাস।