বেনাপোলে আজও হয়নি আমদানি-রফতানি

আপডেট: 06:55:46 23/09/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : বেনাপোলে আমদানি-রফতানি আজও বন্ধ ছিল। হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে শনিবার দুপুর থেকে ভারতীয় ট্রাক শ্রমিক সংগঠন এবং মালিক সমিতি বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়।
ধর্মঘটের কারণে রোববার ভারত থেকে কোনো পণ্য বেনাপোল বন্দরে ঢোকেনি। বেনাপোল থেকে কোনো পণ্যচালানও যায়নি ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে। আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় ভারতের পেট্রাপোলে বন্দরে আটকা পড়েছে পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাক। যার অনেকগুলোতে রয়েছে বাংলাদেশি রফতানিমুখি গার্মেন্ট শিল্পের কাঁচামাল, মাছ, পানসহ বিভিন্ন ধরনের পচনশীল পণ্য।
তবে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাসের কাজ স্বাভাবিক রয়েছে। কাস্টমসেও কাজ চলছে যথারীতি।
ভারতীয় ট্রাক শ্রমিকরা অভিযোগ করছেন, সেদেশ থেকে রফতানি করা পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে আসার পর তাদের উপর শুরু হয় নানা হয়রানিসহ দুর্ব্যবহার। নিয়ম মাফিক বকশিসের টাকা দিলেও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। এ সব জটিলতা নিরসনে দুই দেশের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে স¤প্রতি দুটি আলোচনা সভা বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ট্রাকবিশেষ বকশিসের হার বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু বেনাপোল বন্দরের কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা এই সিদ্ধান্ত না মেনে ইচ্ছামাফিক বকশিস আদায়ের ব্যাপারে অনড় রয়েছেন। সেই কারণে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় ট্রাকশ্রমিক ও মালিকদের সংগঠনগুলো। আজ দ্বিতীয় দিনের মতো তারা বেনাপোলের বিপরীতে পেট্রাপোল বন্দরে মাইক লাগিয়ে সমাবেশ করেন।
এপারের সূত্রগুলো বলছে, পেট্রাপোল বন্দরের কিছু ট্রাকমালিক ও শ্রমিকনেতা পরিকল্পিতভাবে ইতিপূর্বে বেনাপোলে পণ্যজট দেখিয়ে একটি সিন্ডিকেট করে ট্রাকের ডেমারেজ বাবদ প্রতিদিন এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করে নিতেন। এর ফলে একেকটি ট্রাক পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে পৌঁছাতে সময় লাগতো ১৫ থেকে ২০ দিন। বর্তমানে বেনাপোল বন্দরে কোনো পণ্যজট না থাকায় ট্রাকগুলো দিনের দিন প্রবেশ করছে। সে কারণে ভারতীয় ট্রাকমালিক ও শ্রমিকরা কোনো ‘ডেমারেজ চার্জ’ পাচ্ছেন না। এই ক্ষোভে তারা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ করার পাঁয়তারায় নেমেছেন।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ নুরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। শনিবার বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে আলোচনা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। আশা করি, আলোচনা সফল হবে এবং আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।’
এ ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম বলেন, দুই দেশের শ্রমিকদের কোন্দলের কারণে শনিবার দুপুর থেকে এ পথে আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। বাণিজ্য সচল করতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। খুব শিগগির সমস্যার সমাধান হবে।

আরও পড়ুন