বেনাপোলে ২০ লাখ টাকা নিয়ে ‘ডাক্তার’ লাপাত্তা

আপডেট: 09:38:44 30/09/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের বেনাপোলে নামের শেষে বিচিত্র ডিগ্রি ও বিশেষজ্ঞ ব্যবহার করে বিল্লাল হোসেন (৪০) নামের এক পল্লী চিকিৎসক প্রতারণার মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন।
বিল্লাল হোসেন যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের দেউলী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, দুই বছর আগে প্রতারক পল্লী চিকিৎসক বিল্লাল দুই স্ত্রী এবং সন্তানাদি নিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার সাদীপুর গ্রামে বসবাস শুরু করেন। বেনাপোল বন্দরের ছয় নম্বর গেটের সামনে মসজিদের পাশে ‘মিজানুর ফার্মেসী’ নামের একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিজের নামের পাশে এমবিপি, এইচইটি, আইএএম, কলকাতা (ইন্ডিয়া), আরএমপি (ঢাকা)। এছাড়া ‘মেডিসিন, মা ও শিশু, চর্ম ও যৌন রোগে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত’ লিখে একটি ওষুধের দোকান খুলে রোগীদের চিকিৎসা শুরু করেন তিনি। তার কাছে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন কৌশলে। এক পর্যায়ে ওষুধের দোকান করবেন বলে বেনাপোল পোর্ট থানার গাজীপুর পশ্চিমপাড়ার রাশিদা বেগম নামের এক গৃহবধূর কাছ থেকে কয়েক দফায় ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। অন্যান্য রোগীদের কাছ থেকেও হাতিয়ে নেন আরো প্রায় আট লাখ টাকা। এর পর তিনি সবার অগোচরে বেনাপোল ত্যাগ করেন। নিজে যাওয়ার আগে দুই স্ত্রী এবং সন্তানদেরকে বেনাপোল থেকে সরিয়ে দেন।
এদিকে, গত তিন দিন তার ফার্মেমি বন্ধ থাকায় রোগীদের সন্দেহ হয়। পরে সাদীপুরের বাড়িতে গিয়েও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার ঝিকরগাছার বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তিনি সেখানেও যাননি।
সর্বস্ব হারানো রাশিদা বেগম বলেন, ‘অসহায়ভাবে প্রতারক ডাক্তার বিল্লাল আমার কাছে আসে এবং ওষুধের দোকান করবে বলে দোকান ঘর দেখিয়ে কয়েক দফায় মোট ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে জানতে পারি আমার মতো আরো কয়েকজনের কাছ থেকে একই কথা বলে আরো আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সে। এর পর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে।’
ডাক্তার বিল্লালের বক্তব্য জানতে তার নম্বরে একাধিকবার রিং করা হলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ডিউটি অফিসার এসআই মতিয়ার রহমান জানান, এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন