বেনাপোলে ৫০ কোটি টাকার ফিড আটকা

আপডেট: 12:02:06 26/08/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা প্রায় ৫০ কোটি টাকার মাছ, হাঁস-মুরগি ও পশু খাদ্যের চালান আটকা পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এ অচলাবস্থার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের খামখেয়ালিপনাকে দায়ী করা হচ্ছে।
পড়ে থাকায় চালানের অধিকাংশ ফিড নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীদের একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
এদিকে, পণ্য ছাড় করতে না পেরে আমদানিকারকদের মাথায় হাত উঠেছে। একদিকে ব্যাংকঋণ, অন্যদিকে বন্দরের চার্জ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ভারত থেকে বাংলাদেশে পোল্ট্রি ফিড ও এনিম্যাল ফিড সাপলিমেন্ট আমদানি করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রত্যয়নপত্র ছাড়া আমদানিকৃত পণ্য চালান ছাড় না দেওয়ার পত্র দেওয়া হয় বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে। এর ফলে বেনাপোল বন্দরে ভারত থেকে আমদানি করা ৩০-৪০টি পোল্ট্রি ফিস ও পশু খাদ্যের চালানের খালাস বন্ধ হয়ে যায় প্রত্যয়নপত্র না থাকায়।
সরকারের আমদানি নীতি আদেশের ২০১৫-১৮ অনুচ্ছেদের ১৭ নম্বর শর্ত প্রতিপালন করা হলেও শুধু একটি পত্রের কারণে বন্দর থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। মাছ, হাঁস-মুরগি ও পশুখাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষণ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়ে থাকে। জিএমও টেস্ট সনদ দাখিলসাপেক্ষে পণ্য চালান বন্দরে পৌঁছার পর সরকার অনুমোদিত পরীক্ষাগারে ক্লোরোফিনিক্যাল, নাইট্রোফুরান ও এন্টিবায়োটিক পরীক্ষা করে তার সঠিকতা পাচ্ছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তারপরও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রত্যয়নপত্র না আসা পর্যন্ত কোনো পণ্য ছাড় দিতে পারছে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
ভারত বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের বন্দর সাব-কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, আইপিও’র সব শর্ত পূরণ করা হলেও শুধু প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি চিঠির কারণে বন্দরে আটকে আছে ৫০ কোটি টাকার মাছ, হাঁস-মুরগি ও পশুখাদ্য। কাস্টমসের এসআরও ১৩০-আইন/২০২৭/১৬ তারিখ ০১/০৬/২০১৭ আদেশে বলা হয়েছে, টেবিলভুক্ত হাঁস-মুরগি ও পশুখাদ্য শুল্কমুক্তভাবে ছাড়করণের ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। যদি প্রত্যয়নপত্র না থাকে তাহলে তাকে শুল্ক পরিশোধ করেই খালাস নিতে হবে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, বর্তমানে দেশে ভয়াবহ বন্যার কারণে মাছ, হাঁস-মুরগি ও পশুখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। আমদানিনীতি আদেশ অনুসরণ না করে শুধু প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি চিঠির কারণে বেনাপোল বন্দরে ৫০ কোটি টাকার ফিড চালান আটকে থাকায় সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে অমদানিনীতি অনুসরন করে আটকে থাকা ফিডের চালান খালাস দেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের শার্শা উপজেলা কর্মকর্তা জয়দেবকুমার সিংহ জানান, মাছ, হাঁস-মুরগি ও পশুখাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লাইসেন্স ও প্রত্যয়নপত্র আবশ্যক। তবে কাস্টমস চাইলে আটকে থাকা পণ্য খালাস দিতে পারে।
শুধু বেনাপোলের ক্ষেত্রে কেন অধিদপ্তর এমন পত্র দিলো- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পত্র ঢাকা থেকে দিয়েছে। আমার জানা নেই।’
এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. শওকাত হোসেন বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চিঠির কারণে পণ্যচালানগুলো আটকে আছে। প্রত্যয়নপত্র এলে আমরা দ্রুত খালাস দিয়ে দেবো।’

আরও পড়ুন