বেনাপোল-খুলনা ট্রেন যাত্রীদের টাকা টিটিইদের পকেটে!

আপডেট: 07:22:34 13/12/2016



img

স্টাফ রিপোর্টার : বেনাপোল-যশোর-খুলনা কমিউটার ট্রেনে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে চলছে যাতায়াত ব্যবস্থা। সেইসঙ্গে দুই হাত ভরে অর্জন করছে সরকারকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধ টাকা। যাত্রীদের টাকা দেদারছে ঢুকছে টিটিদের পকেটে। রেলপথে এসব দেখার কেউ নেই। নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত সবাই।
বেনাপোল থেকে যশোরে ভাড়া ২০ টাকা ও খুলনার ভাড়া ৪৫ টাকা। বেনাপোল থেকে ছেড়ে যাওয়া কমিউটার ট্রেনে দেখা গেছে শতকরা ৪০ ভাগ লোক ট্রেনে টিকিট না কেটে ওঠে। এরা অর্ধেক পয়সায় গন্তব্য পৌঁছে যায় আবার অনেকে ফাঁকি দিয়ে যায় নানা ছলচাতুরির মধ্য দিয়ে। আসার সময়ও একই অবস্থা। খুলনা থেকে ২০ টাকা ও যশোর থেকে দশ টাকায় চলে আসা যায় নগদ দিয়েই। আর সে কারণে অনেকে টিকিট কাটতে চায় না। এ ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদের চেয়ে মহিলা চোরাচালানিরা উঠে থাকে বেশি। তারা টিকিট না কেটে পা তুলে সিটে বসে থাকে। অথচ টিকিট কাটা অনেককেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ট্রেনের বিভিন্ন জায়গা ছিদ্র করে তারা চোরাই মালামাল নিয়ে যায়। ট্রেনের মধ্যে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) থাকলেও তারা একটি বগিতে সিট নিয়ে ঘুমায়। আর যাওয়ার সময় চোরাচালানিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে দেখা যায়। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেনাপোল থেকে সকাল সোয়া ১০টার সময় এবং দুপুর দুইটার সময় দুটো ট্রেন যশোর ও খুলনা রুটে চলাচল করে। ট্রেনের চেকাররা (টিটি) প্রতিটি বগিতে গিয়ে টিকিট চেকের সময় টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে নিচ্ছে বিনা রশিদে। তাদের টিকিট না কেটে উঠার অপরাধে কোনো জরিমানাও করা হয় না। আর এ সুযোগে বেশির ভাগ যাত্রী অর্ধেক টাকা দিয়ে তাদের গন্তব্য পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে যাত্রীদের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে আর অপরদিকে লাভবান হচ্ছে ট্রেনের চেকাররা। এ দৃশ্য প্রতিদিনের যাওয়া আসায় চোখে পড়বে সবার। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ঠিকমতো অর্থ জমা না হওয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বেনাপোল রেলস্টেশনের মাস্টার আজিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এরা অনেক টাকা ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছে, বদলি (একজনের পরিবর্তে আরেকজন) নিয়েছে। যার কারণে এসব কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। আইন আছে টিকিট না কাটলে তাদের জরিমানা করে অর্থদণ্ড দেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম। এরকম কিছু দেখা যায় না।'
আপনারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'টিটিরা আমাদের কাছে রিপোর্টেবল না। তাদের ইন্সপেক্টর আছে তাদের কাছে ওরা জবাবদিহিতা করে।
বেনাপোল রেলস্টেশনের একটি সূত্র জানায়, যাত্রীদের টিকিট না কাটার ব্যাপারে টিটেইরাই উৎসাহিত করে। যাত্রীদের বলে ট্রেনে যান, ওখান থেকে টিকিটের টাকা নেওয়া হবে। এভাবে দেশের সম্পদ রেলওয়ে প্রতিষ্ঠানকে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাচ্ছে।
অপরদিকে রেলের পাওয়ার বগিতে থাকা কর্মচারীরা তার পাওয়ার বগিতে চোরাচালানের পণ্য উঠিয়ে থাকে অর্থের বিনিময়ে। আর চোরাচালানিদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে থাকে তারা।

আরও পড়ুন