বেনাপোল সীমান্তে প্রথমবারের মতো বিজিবির নারী সৈনিক

আপডেট: 01:55:31 01/08/2016



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও পুলিশের পর এবার সীমান্তরক্ষার দায়িত্বে থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবিতে নারী সৈনিকের যাত্রা শুরু হলো।
প্রথমবারের মতো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৫ নারী সৈনিককে রোববার সকালে বেনাপোলে সীমান্তে নিযুক্ত করা হয়েছে। গত ৫ জুন প্রথম ব্যাচের ৯৭ জন নারী বিজিবির কর্মকা-ে যুক্ত হন। এদের মধ্যে ১৫ জনকে যশোর ২৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নে পাঠানো হয়। এই ১৫ জনই বেনাপোল বিজিবির আইসিপি (চেকপোস্ট) ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে চেকপোস্ট ক্যাম্পে ১৩ জন ও আমড়াখালি চেকপোস্ট ক্যাম্পে দুইজনকে নিযুক্ত করা হয়েছে। রোববার দুপুরে এদের দুইজনকে বেনাপোল চেকপোস্টে কর্তব্য পালন করতে দেখা গেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, নানা পেশায় পুরুষের পাশাপাশি নারীর অংশগ্রহণ ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজিবিতে ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো নারী সৈনিক নিয়োগ দেওয়া হয়। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুল’-এ মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে গত ৫ জুন প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে নারী সৈনিকদের প্রথম ব্যাচটি বিজিবিদের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। যোগদানের পরপরই তাদের টেকনাফ ও বেনাপোলের মতো যেসব এলাকায় নারী পাচারকারীদের আনাগোনা সেখানে পোস্টিং দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিজিবির গেটগুলোতেও পুরুষের পাশাপাশি দায়িত্বে থাকবেন নারীরা। এ বছর আরো ১০০ জন নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ জুলাই মাসে শুরু হয়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি ক্যাম্পে ঋতু, নারগিস, তানিয়া সুলতানা, মৌসুমি, সাগরিকাসহ মোট ১৩ জন সদস্য যোগ দিয়েছেন।
নারগিস খাতুন জানান, ট্রেনিং শেষে তারা প্রথমে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে যোগদান করে ডিউটি করছেন।
‘এ পেশা কেমন লাগছে’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভালোই। দেশের স্বার্থে চোরাচালান ও পাচার রোধ করতে পারলে ভালোই লাগবে। আমরা কর্তব্যে অবহেলা করব না। আশা করি, সুনামের সাথে কাজ করতে পারব।’
বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্প সূত্র জানায়, নারীরা রাতে ডিউটি করবেন না। তারা শুধু দিনের বেলায় বেনাপোলের আমড়াখালি এবং সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডসহ বিভিন্ন পোস্টে কর্তব্য পালন করবেন।
বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পের হাবিলদার কামাল হোসেন বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবির নারী সদস্য প্রয়োজন। কারণ সীমান্ত দিয়ে অনেক নারী চোরাচালানি যাতায়াত করে থাকেন। অনেক সময় এসব চোরাচালানি নারীদের শরীর পুরুষ বিজিবি সদস্যরা তল্লাশি করতে পারেন না। আবার পাসপোর্টধারী অনেক যাত্রীও বৈধপথে অবৈধ পণ্য নিয়ে দেশের মধ্যে ঢোকেন। সন্দেহ হওয়া সত্ত্বেও তাদের তল্লাশি করা সম্ভব হয় না। নারী বিজিবি সদস্য যোগ হওয়ায় আর এ বাধা রইল না।’
তিনি আরো জানান, নারী বিজিবি সদস্য যোগ হওয়ায় অনেক নারী চোরাচালানি এ পথ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন।
যশোর ২৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন সীমান্তে নারী সৈনিক যোগদানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিজিবি-কে আধুনিকায়ন করতে পুরুষ সৈনিকদের পাশাপাশি নারী সৈনিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস বিজিবির নারী সদস্যরা ভালো করবেন। নারী পাচার, মাদকসহ সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান বন্ধে পুরুষ সৈনিকদের পাশাপাশি কাজ করবেন তারাও।’

আরও পড়ুন