বেনাপোল সীমান্তে ‘ক্রাইমফ্রি জোন’ উদ্বোধন আজ

আপডেট: 02:40:04 09/03/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : আজ শুক্রবার থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের আট দশমিক তিন (৮.৩) কিলোমিটার এলাকা প্রথমবারের মতো ‘ক্রাইমফ্রি জোন’ বা ‘অপরাধমুক্ত এলাকা’ ঘোষণা করা হবে।
দুপুরে যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টের বিপরীতে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ সীমান্তে ৬৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কালিয়ানি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমা এলাকায় ‘ক্রাইমফ্রি জোন’ উদ্বোধন করা হবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, ভারতের বনগাঁ থেকে নির্বাচিত লোকসভা সদস্য (এমপি) মমতা ঠাকুর, পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক (বনগাঁ উত্তর) শ্রীবিশ্বজিত দাস, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে ভারতের নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন (বুধবার তাকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে) সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের কৌশল হিসেবে সীমান্তের অপরাধপ্রবণ এলাকাকে ‘ক্রাইমফ্রি জোন’ ঘোষণার প্রস্তাব করেন। বিএসএফের মহাপরিচালক কে কে শর্মা ওই প্রস্তাবের প্রশংসা করেন এবং ‘ক্রাইমফ্রি জোন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় উভয় দেশের সম্মতিতে বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্তের পুটখালী ও দৌলতপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এবং বিপরীত দিকে ভারতের কালিয়ানি ও ঘোনারমাঠ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার (বর্ডার পিলার নম্বর ১৭/১৪৩-আর থেকে ১৭/১৮১-আর পর্যন্ত) মোট ৮.৩ কিলোমিটার সীমান্ত পরীক্ষামূলকভাবে ‘ক্রাইমফ্রি জোন’ ঘোষণা করা হচ্ছে।
‘ক্রাইমফ্রি জোন’ ঘোষিত সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিজিবির উদ্যোগে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকারের বর্ডার সার্ভেইল্যান্স ডিভাইস যেমন, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, সার্চ লাইট, থার্মাল ইমেজার ইত্যাদি স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
‘ক্রাইমফ্রি জোন’ এর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ যেমন, চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার, মানব পাচার, মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যাতে না হয় সে লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বক্ষণিক নজরদারি রাখবে। এছাড়া নিজ নিজ দেশের স্থানীয় প্রশাসন এবং সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণের সহযোগিতায় সীমান্ত অপরাধে জড়িতদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের যথাসাধ্য ব্যবস্থা করা হবে। পর্যায়ক্রমে সীমান্তের অন্যান্য এলাকা ‘ক্রাইমফ্রি জোন’ ঘোষণার লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন