বেহাল ব্রিজে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

আপডেট: 10:54:06 10/09/2018



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : অর্থ বরাদ্দ না থাকায় পুনঃনির্মাণ বা সংস্কার করা যাচ্ছে না ব্রিজটি। ফলে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি ব্রিজ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
উপজেলার বেবলতলা-শড়াতলা ব্রিজ এটি। এই ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের চলাচল। বিকল্প তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গঙ্গা কপোতাক্ষ (জি কে) সেচ প্রকল্পের আর-২ গেট থেকে দুই কিলোমিটার দূরে বেলতলা এলাকায় সেচ ক্যানেলের ওপর ১৯৬২ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয় এই ব্রিজটি। এই ব্রিজের ওপর দিয়ে বেলতলা, শড়াতলাসহ আট গ্রামের ৩০ হাজার মানুষের চলাচল।
কিন্তু দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্রিজটি ভেঙে রয়েছে। এতে মানুষের যাতায়াতে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি পরিবহন করা যাচ্ছে না কোনা ভারি মালামাল। ফলে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা শহরে যেতে হচ্ছে তাদের। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ।
বেলতলা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ব্রিজটি ভেঙে থাকায় তারা ঠিকমতো চলাচল করতে পারছেন না। ভাঙা ব্রিজের ওপর কয়েকটি বাঁশ দিয়ে রাখায় কৃষি পণ্য বিক্রির জন্য ভ্যান বা গাড়িতে করে ব্রিজের ওপর দিয়ে উপজেলার কোনো বাজারে যাওয়া যায় না। ফলে অনেক পথ ঘুরে উপজেলায় যেতে হয়। এতে তাদের খরচ অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু বার বার উপজেলা প্রশাসন বা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান জানান, ব্রিজটির মাধ্যমে সংযুক্ত ফলসী ও জোড়াদাহ- এই দুই ইউনিয়নের মানুষ। তার মাঠে-ঘাটে যাওয়ার জন্যও ব্রিজটি ব্যবহৃত হয়। আর দীর্ঘদিন ভেঙে থাকায় দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাই সরকারের কাছে দাবি, মানুষের কষ্ট লাঘবে যেন দ্রুতই এই ব্রিজটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ করা হয়।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রিজটি আমরা পরিদর্শন করেছি। উপজেলা সমন্বয় সভায়ও উথাপন করা হয়েছে। কিন্তু ব্রিজের মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাই পাউবো উদ্যোগী না হলে এটি পুনঃনির্মাণ করা সম্ভব না।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মহসিন উদ্দিন জানান, ১৯৬২ সালের দিকে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন ভেঙে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে সংস্কার করলে তা কাজে আসবে না। এটি আবার নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘মালিকানা আমাদের হলেও ব্রিজটি পুনঃনির্মাণের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তার কিছুই নেই। ফলে কোনো কাজ করা যাচ্ছে না। উপজেলা মিটিংয়ে তোলা হলেও অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।’

আরও পড়ুন