বৈশাখে ফিরলো হারিয়ে যাওয়া গ্রাম

আপডেট: 03:22:44 15/04/2019



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : বাড়ির উঠোন বানানো হয়েছে গ্রামের হাইস্কুলের মাঠকে। সেখানে তৈরি করা হয়েছে সাফদার ডাক্তারের চেম্বার। সেখানে রোগী দেখছেন পল্লী চিকিৎসক গোলাম রহমান ওরফে চেনা ডাক্তার। আছে আসমানিদের জরাজীর্ণ বাড়ি। জসিম উদদীনের ‘কবর’ কবিতার চিত্র ফুটিয়ে সেখানে ক্রন্দনরত রয়েছে নাতি পশ্চিমপাড়ার দাউদ হোসেন। আদর্শ কৃষকের সংসার। সেই সংসারে কুলায় ধান ও চাল ঝাড়ছে বধূরা। গ্রাম্য সংসারের সব কিছুই সেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পালকি চড়ে নতুন বউ যাচ্ছে স্বামীর ঘরে। ঢেঁকিতে ধান ভানছে গ্রামের বউরা। গ্রামবাংলার চিরাচরিত নিয়মে যাঁতা ঘুরিয়ে ডাল বানানো হচ্ছে।
জ্যোতিন্দ্রমোহন বাগচির ‘কাজলা দিদি’র কবিতার মতোই স্মৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুকুর, বাতাবিলেবু ও বাঁশবাগানের সমন্বয়ে। আছে পান্তা-ইলিশ। রয়েছে বিষধর সাপের খেলা। অজপাড়া-গাঁ থেকে হারিয়ে যাওয়া অসাধারণ সব দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
সকাল থেকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা সরকারি প্রাইমারি ও হাইস্কুলের স্কুলের শিশু মেয়েদের বৈশাখি উৎসবের পোশাক পরে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য বর্ষবরণের এই অনুষ্ঠানকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে।
সকাল দশটার দিকে বংকিরা, ধোপাবিলা, হাজরা, আসাননগর, গোবিন্দপুর, জীবনা ও মোহাম্মদপুর গ্রামের মানুষদের নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। সাধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন, বংকিরা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক খোশনুর রহমান, গোবিন্দপুর সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ, হাজরা সরকারি প্রাইমারির প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান, এলাকার ছেলে সাংবাদিক আসিফ ইকবাল কাজলসহ শত শত মানুষ র‌্যালিতে যোগদান করেন।
ব্যতিক্রমধর্মী বর্ষবরণের এই আয়োজন করেন বংকিরা পুলিশ ক্যাম্পের আইসি কাজী বায়োজিদ আহম্মেদ। মূলত তার পরিকল্পনায় গ্রামবাংলার এই চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।