বোরোর আশাতীত উৎপাদন, দাম নিয়ে শঙ্কা

আপডেট: 07:24:54 29/04/2019



img

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : মহেশপুরে এবার বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে পুরোদমে ধান কাটা চলছে। এখন এক মাত্র ভয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে ভালো ফলন হলেও দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার মহেশপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে; যা গত বছরের চেয়ে ১৫০ হেক্টর বেশি। গত মওসুমে বোরো ও আউশ ধানের ফলন বিপর্যয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবারে এলাকায় অনেক বেশি জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। তবে এখন কৃষকের একমাত্র আশঙ্কা প্রাকৃতিক বিপর্যয়। তা থেকে রক্ষা পেলে তারা সোনালি ধান ঘরে তুলতে পারবেন হাসি মুখে।
উপজেলার নেপা, ভৈরবা, যাদবপুর, পাতিবিলা, জাগুসা, গাড়াবাড়িয়া, মান্দাতলাসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর বীজ সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবারের চেয়ে প্রায় অর্ধেক উৎপাদন হয়েছিল। এই মওসুমে পুষিয়ে নিতে আরো বেশি জমিতে ধান চাষ করেছেন তারা।
পাতিবিলা গ্রামের কৃষক সাগর ইসলাম জানান, দুই বিঘা জমিতে এবারে বোরো ধান চাষ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে দশ কাঠা জমির ধান কাটা হয়েছে। ধানের ফলন অত্যন্ত ভালো।
গাড়াবাড়িয়ার মকবুল হোসেন জানান, জমির ধান বেশিরভাগ পেকে গেছে। ফলনও গত কয়েক বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। ফলে ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে পোষাবে না।
এদিকে, সরকার ২৬ টাকা কেজি দরে ধান কেনার ঘোষণা দিলেও প্রকৃত কৃষকরা সরকারি গোডাউনে ধান দিতে পারবেন কি-না তা নিয়ে মুখে মুখে প্রশ্ন। বর্তমানে এলাকায় সাড়ে ছয়শ’ টাকা দরে ধান বিক্রি হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করতে ১৪-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। শ্রমিকসহ উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের লাভ হচ্ছে না। গুনতে হচ্ছে লোকসান।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে ধানের দাম মণপ্রতি এক হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ হলেও এ ধান কৃষকরা গোডাউনে দিতে পারেন না। দেখা যায়, সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থাকা একদল ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে গোডাউনে ধান দেন। কৃষকরা ধান দিতে চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু তালহা বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারে বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে আশাতীত। আগাম জাতের ধান কাটা থেকে যে ফলন পাওয়া গেছে তা অতীতের চেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, বর্তমানে শতকরা প্রায় ১০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। ধানকাটা শ্রমিকের সংকট রয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে চলতি বছর বোরোর রেকর্ড উৎপাদন হবে। দুর্যোগ এড়াতে ধান ৯০ ভাগ পেকে গেলে অতিসত্বর কেটে নেওয়ার পরার্মশ দিয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন