ব্যবস্থাপত্র লেখেন নার্স

আপডেট: 01:56:37 02/04/2019



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : চরম অবহেলা ও অব্যস্থাপনার মধ্যে চলছে সাতক্ষীরার একমাত্র সরকারি বক্ষব্যাধি ক্লিনিক।
এখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পদ শূন্য দীর্ঘদিন। একজন মেডিকেল অফিসার ভারপ্রাপ্ত থাকলেও সপ্তাহে পাঁচদিন আসেন না। প্যাথলজিস্ট নেই, টেকনিশিয়ান না থাকায় নষ্ট হতে চলেছে মূল্যবান এক্স-রে মেশিন। উচ্চমান সহকারী অন্যত্র ডেপুটেশনে রয়েছেন। রোগী এলে রোগের বিবরণ শুনে ব্যবস্থাপত্র লিখছেন একজন নার্স।
সাতক্ষীরা শহরের বাটকেখালী এলাকায় অবস্থিত বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে সরেজমিনে দেখা গেল, রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখছেন সনিয়া খাতুন নামে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা একজন স্টাফ নার্স। কীভাবে বক্ষব্যাধির মতো জটিল রোগীর ব্যবস্থাপত্র বা ওষুধ লিখছেন- এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ডাক্তার না থাকায় রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখছি। কিন্ত এটি আসলে আমার কাজ না।’
কথা হয় চিকিৎসা নিতে আসা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের হামিজদ্দীনের সঙ্গে। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে কাশির সঙ্গে রক্ত উঠছে। তাই জরুরিভাবে চিকিৎসা নিতে এসেছেন বক্ষব্যাধি হাসপাতালে। কিন্ত এখানে এসে হতাশ হয়েছেন তিনি। ডাক্তার না থাকায় একজন নার্স ওষুধপত্র লিখে দিয়েছেন তাকে। এমনকি বুকের এক্স-রেসহ অন্যান্য পরীক্ষাও করাতে পারেননি তিনি।
সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা বদর উদ্দীন জানান, বুকের চিকিৎসা করাতে এসে পর পর দুই দিন ফিরে গেছেন ডাক্তার না থাকার কারণে। এই হাসপাতালের একজন মহিলা অফিস সহায়কের পরামর্শে বাইরে থেকে বুকের এক্স-রে করে নিয়ে এসেছিলেন। এক্স-রে করার পর একজন নার্স তাকে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়েছেন বলে জানান বদর।
এই হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট পদে নিয়োজিত নিভা মজুমদার জানান, এখানে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন। একজন মেডিকেল অফিসার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করলেও তিনি সপ্তাহে একদিন বুধবার আসেন। সপ্তাহের অন্যান্য দিন সাতক্ষীরা সদর হাসাপাতালে থাকেন। এছাড়া টেকনিশিয়ান না থাকায় এ হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্যাথলজিস্টের পদও বহুদিন শূন্য থাকায় রোগীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারছেন না। একইভাবে এ হাসপাতালের উচ্চমান সহকারীও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন।
এব্যাপারে আরো জানতে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডাক্তার তানভীর আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার রিং করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
যোগাযোগ করা হলে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডাক্তার রফিকুল ইসলাম অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন জানিয়ে বলেন, দেশব্যাপী সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডাক্তারসহ অন্যান্য লোকবল সংকট। তবে সাতক্ষীরা ফিরে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন