ব্লাস্ট : মণিরামপুরে বোরো চাষিদের মুখ বেজার

আপডেট: 03:12:16 13/04/2018



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : ধান কাটার বাকি আর মাত্র ১০-১৫ দিন। কৃষকের চোখেমুখে এখন সোনালি ফসল ঘরে তুলতে যাওয়ার আনন্দের ঝিলিক থাকার কথা।
কিন্তু মণিরামপুরের বোরো চাষিদের মুখ বেজার। তাদের ক্ষেতে বিস্তার ঘটেছে ব্লাস্ট ছত্রাকের। গাছ তরতাজা থেকে আগা কালো হয়ে শীষ শুকিয়ে ধান চিটা হওয়াই গিটব্লাস্ট। গাছের বয়স না হলেও এই রোগে ধানের পাতা লালচে হয়ে যাচ্ছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ধান পেকে গেছে।
মণিরামপুরের শত শত হেক্টর জমির ধান এই গিটব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। কারো আবার পুরো জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলার রোহিতা, পলাশী, খেদাপাড়া, হেলাঞ্চি, কাশিমনগর, খানপুর, রাজগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার ধানের জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে গিটব্লাস্ট। ছত্রাকজনিত রোগ হওয়ায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের জমিতে। বিভিন্ন রকম কীটনাশক ব্যবহার করেও ছত্রাকমুক্ত করতে পারছেন না কৃষক।
প্রয়োজনীয় পরামর্শের অভাবে কৃষকরা কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ। যেখানে বিঘাপ্রতি চাষির ২২-২৫ মণ ধান পাওয়ার কথা, গিটব্লাস্ট আক্রান্ত ক্ষেতে সেই ধানের পরিমাণ নেবে আসবে ৫-৭ মণে।
উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, এবার মণিরামপুরে ২৯ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। তার মধ্যে তিন হেক্টর জমিতে বিক্ষিপ্তভাবে এই রোগ দেখা দিয়েছে।
যদিও মাঠপর্যায়ে পাওয়া তথ্যমতে, গিটব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত ধানি জমি প্রায় ৫০০ হেক্টর।
আবহাওয়াজনিত কারণে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্রি-২৮ জাতের ধানে এই রোগ ছড়িয়েছে বেশি।
উপজেলার টেংরামারী বিলের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘দেড় বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করিছি। কয়দিন ধরে ক্ষেতের ধানের আগা কালো, শীষ সাদা হয়ে চিটে হয়ে গেছে। ওই জমিতে ৫-৬ মণের বেশি ধান হবে বলে মনে হচ্ছে না।’
ইসমাইলের পাশেই দশ কাঠা জমি লিজ নিয়ে ধান লাগিয়েছেন রঘুনাথপুর গ্রামের জাকির হোসেন। ব্লাস্ট আক্রমণের ফলে তার পুরো জমি কুড়িয়ে তিন মণ ধান পাওয়া কষ্টকর হবে।
ওই মাঠের কৃষক আবুল ইসলাম, মইন, তহিরসহ অনেকের জমিতে গিটব্লাস্ট দেখা দিয়েছে।
রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক ভুট্টো এক বিঘা জমিতে পাঁচ মণ ধান পেতে পারেন বলে মনে করছেন। ওই গ্রামের বিনোদ রায় বলেন, ‘অনেকভাবে ট্রিটমেন্ট করেও ধান রক্ষা করা যাচ্ছে না।’
শেখপাড়া রোহিতা মাঠে কৃষক নাসেরের ১৫ কাঠা জমির ধান গিটব্লাস্টে আক্রান্ত হয়ে চিটা হয়ে গেছে। পাশের মাঠের রায়হানের ১২ কাঠা জমির মধ্যে এক কাঠা জমির ধান নষ্ট হয়েছে। এছাড়া রাজগঞ্জের হানুয়ার মাঠে গিটব্লাস্টে আক্রান্ত হয়ে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মণিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুশান্তকুমার তরফদার বলেন, ‘উপজেলার ২৯ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে আবহাওয়াজনিত কারণে বিক্ষিপ্তভাবে তিন হেক্টর জমিতে গিটব্লাস্ট দেখা দিয়েছে। গত দুই দিন ধরে কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে কর্মকর্তারা এসে মাঠ জরিপ করছেন। তারা নমুনা সংগ্রহ করছেন।’
আক্রান্ত কৃষককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি এই কর্মকর্তার।

আরও পড়ুন