ভবদহের বিলে অপরিকল্পিত ঘের, ধানচাষ অনিশ্চিত

আপডেট: 08:13:16 05/02/2018



img

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : ভবদহের জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত গান্ধিমারার বিলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে মাছের ঘের। বিলে যাতায়াতের হালট ও পানি প্রবাহের নিচু দাঁড়া বাধা পড়ায় পানি বেরুতে পারছে না। যে কারণে ওই বিলে এবছর বোরো ধান চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গত বছরও বোরো আবাদ হয়নি ওই বিলে। ফলে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে এলাকার কৃষকদের মাঝে।
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিলের হাজিভাঙ্গা এলাকা থেকে ডুমুরতলা খালে পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো পথ না রেখে মাছের ঘের করা হয়েছে। বিলে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত খাস হালট ও খাল দখল করে মাছের ঘের করা হয়েছে। ওই বিলের পানি প্রবাহের প্রধান পথ ধোপাদী গাজীর কালভার্ট থেকে ডুমুরতলা বড় কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কোথাও পানি নিষ্কাশনের পথ না রেখে মাছের ঘের করা হয়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে বিলের পানি প্রবাহ। অনেকে ঘেরের পানি পাম্প দিয়ে সেচে ফেলছে কৃষকের ফসলি জমিতে। এতে করে ফসলি জমিতে পানি বেড়ে যাচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে বোরো চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এলাকার কৃষকরা জানান, বিলে হাবিবুর ফারাজী, শ্যামল ও ডুমুরতলা গ্রামের ছোট কালভার্টের পাশে কৃষ্ণ বৈরাগীর অপরিকল্পিত ঘেরের কারণে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। তারা দ্রুত ওই সব ঘেরের মাঝ বরাবর খাল কেটে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী জানান, অপরিকল্পিত মাছের খামার করায় পানি প্রবাহে বাধা পড়েছে। তাছাড়া জলাবদ্ধ সমস্যা লাঘবের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণ করা ডুমুরতলা-মশিয়াহাটি সড়ক ব্যবহার করে অনেক মাছের খামার গড়ে উঠেছে। ওই সব খামারে ব্যবহার করা হচ্ছে মানুষ ও পশু-পাখির মলসহ রাসায়নিক সার। এতে করে সড়কটির মাটি ক্ষয়ে হুমকির মুখে পড়েছে।
তিনি দ্রুত এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের পথ না রেখে মাছের ঘের করার ফলে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য এলাবাসীর সাহায্য জরুরি। এ জন্য এলাকাবাসী সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য আবেদন করলে আমি কার্যকর ব্যবস্থা নেবো।’

আরও পড়ুন