ভবদহে ঈদ-পূজা আসছে বিষাদে ভর করে

আপডেট: 01:21:06 31/08/2017



img
img
img

স্টাফ রিপোর্টার : একদিন বাদেই ঈদুল আজহা, মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বাঙালি হিন্দুর সবচে’ বড় পার্বণ দুর্গাপূজাও সমাগত। চারিদিকে উৎসবের আমেজ। কিন্তু ভবদহ পাড়ের লাখো হিন্দু-মুসলিম বঞ্চিত হতে চলেছে এই আনন্দ-উৎসব থেকে। তাদের জীবনে এবারের ধর্মীয় উৎসব আসছে একরাশ বিষাদে ভর করে।
‘যশোরের দুঃখ’ ভবদহ এবারও সর্বনাশ ডেকে এনেছে। ভবদহ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ ডুবে গেছে পানিতে। এই অঞ্চলের মণিরামপুর, অভয়নগর আর কেশবপুরের লাখো মানুষ মাসাধিককাল ধরে পানিবন্দি। তাদের অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তার ওপর টংঘর তুলে বাস করছেন। পানিতে তলিয়ে আছে ঈদগাহ। একই কারণে শুরু হয়নি এই অঞ্চলের মন্দিগুলোতে প্রতিমা তৈরির তৎপরতাও।
চলতি বছর জ্যৈষ্ঠে দুই দফা ভারি বর্ষণে উত্তরের পানি জমা হতে থাকে ভবদহ এলাকায়। পরে আষাঢ়ের বৃষ্টিতে এসব এলাকা কয়েকদিনের মধ্যে ডুবে যায়। পানি ঢুকে যাওয়ায় যশোরের তিন উপজেলার শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। শত শত পরিবার আশ্রয় নেয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উঁচু স্থান বা রাস্তার ওপর। সেই থেকে লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছেন।
যশোর-কেশবপুর সড়কে আশ্রয় নেওয়া কেশবপুর উপজেলার মধ্যকূল গ্রামের ইলিয়াস সরদার (৫০) বলেন, ‘এক মাস আগে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় এসে উঠিছি। আয় রোজগার নেই। খেয়ে না খেয়ে কোনো মতে বেঁচে আছি। কবে বাড়ি ফিরতি পারবো জানিনে। তাই এবার ঈদের কোনো আনন্দ নেই।’
একই গ্রামের সৈয়দ আলী বলেন, ‘আমাদের ঈদগাহ এখনো দুই হাত পানির নিচে। গত বছরও এই অবস্থা ছিল। তখন রাস্তার ওপর ঈদের নামাজ পড়িলাম। ছেলে-মেয়েদের কিছু কিনে দিতি পারিনি। আমাদের জীবনে ঈদ আসছে কান্না নিয়ে।’
কেশবপুরের হরিহর নদীর তীরে বাড়ি শোভা দেবনাথের। তবে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে এখন তিনি পরিবারের অন্যদের সঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন কেশবপুর পাইলট স্কুল আশ্রয় কেন্দ্রে। এই স্কুলে তার গ্রামের আরো ছয়টি হিন্দু পরিবার উঠেছে। স্থানাভাবে এই সাত পরিবার এক সঙ্গে রান্না করছে, খাচ্ছেন সবাই মিলে। আসছে পূজা নিয়ে তাদের মনে কোনো উৎসাহ নেই। কারণ বাড়িতে এখনো কোমরসমান পানি।
শোভা দেবনাথ বলেন, ‘গত বছর জলাবদ্ধতার কারণে তিন মাস রাস্তায় ছিলাম। মাস পাঁচেক আগে রাস্তা থেকে বাড়িতে গিইছি। এখনো সব ঘর ঠিকঠাক করতি পারিনি। এরই মদ্যি জল এসে আবার সব মাটি করে দিয়েছে। মন্দিরের মধ্যে জল। কী করে পুজো হবে?’
যশোর জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আনোয়ারুল করিম যশোরী বলেন, ‘জলাবদ্ধতার জন্য যশোরের তিনটি উপজেলায় বেশ কয়েকটি ঈদগাহে জামাত হবে না। তবে ঈদের নামাজতো আর বন্ধ হবে না! অন্য জায়গায় তারা নামাজ আদায় করে নেবে।’
যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিপংকর দাস রতন বলেন, ‘গত বছরের মতো জেলার কেশবপুর, মণিরামপুর ও অভয়নগরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এখনো দশটির মতো মন্দিরে পানি জমে আছে। এজন্য ওই মন্দিরগুলোতে পূজার আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া বাড়িতে পানি থাকায় অনেকে এখনো রাস্তার ওপর অবস্থান করছেন। এজন্য তাদের পূজার উৎসব ম্লান হয়ে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন