ভবন পরিত্যক্ত, টিনের চালার নিচে পাঠদান

আপডেট: 05:41:39 28/03/2019



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : রতনপুর চরবাঘিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৭৩ সালে ঝিনাইদহের শৈলকুপার উপজেলার চরবাঘিনী গ্রামে সাড়ে ৬৬ শতক জমির ওপর স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৯৩ সালে তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিস রুমের নতুন ভবন তৈরি করা হয়। আকমল হোসাইন নামে স্থানীয় এক ঠিকাদার এই ভবনটি তৈরি করেন। অভিযোগ, সে সময় নিম্নমানের ইট, বালি ও রড ব্যবহারের ফলে অল্প সময়ে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. চঞ্চল হোসেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল উপজেলা শিক্ষা অফিসার রেজাউল করিম ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। এরপর থেকে একটি টিনের চালা ও পাশের একটি মন্দিরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে।
স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, ছাদের সিমেন্ট-বালির প্লাস্টার খসে পড়ছে। ফলে ছাদে ব্যবহৃত রডগুলো বেরিয়ে গেছে। যে কোনো সময় ছাদ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এই স্কুলে ৮৫ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করে। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলও ভালো বলে উল্লেখ করেন প্রধান শিক্ষক।
ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার জন্য মূল ভবনের পাশেই এক লাখ ছয় হাজার টাকা ব্যয়ে একটি টিনের চালা তৈরি করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তার কোনো পাশে টিন নেই। যে কারণে বর্ষার সময় এখানে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে সেসময় আর ক্লাস করা সম্ভব হয় না। আবার আসছে বর্ষা মৌসুম। এই মৌসুমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে চিন্তায় আছেন শিক্ষকরা।
বিভিন্ন সময় সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের কর্মকর্তারা স্কুলটি পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু আজও ভবন তৈরি হয়নি বলে জানান প্রধান শিক্ষক।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিলয় বিশ্বাসের ভাষ্য, ‘আমরা প্রতিদিনই সকালে এসে দেখি ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে আছে। মাঝে মাঝে মাথার উপর প্লাস্টার এবং ধুলাবালি খসে পড়ে।’
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাগর বিশ্বাস জানান, স্কুল ভবনটি একেবারেই ক্লাস নেওয়ার অনুপযোগী। স্কুলের নতুন ভবনের জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এখনো ফল মেলেনি।
শৈলকুপা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘স্কুলের নতুন ভবনের জন্য চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে ভবনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ জানিয়ে অফিসিয়াল চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত নতুন ভবনের ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’
ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ আক্তারুজ্জামান জানান, স্কুলটির দুরাবস্থার কথা তার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রæতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই শিক্ষা কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন