ভাঙনে আতঙ্কিত ইছামতি তীরের বাসিন্দারা

আপডেট: 08:43:47 22/06/2018



img

জি এম আব্বাসউদ্দীন, দেবহাটা (সাতক্ষীরা) : দেবহাটা উপজেলার গা-ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত নদী ইছামতির কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
চলতি বর্ষা মৌসুমে ভেড়িবাঁধের ভাঙন ব্যাপক দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসী। সহায়-সম্পদ রক্ষার জন্য তাদের খাওয়া-ঘুম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভেড়িবাঁধ ভাঙতে ভাঙতে সামান্য কিছু অংশ অবশিষ্ট আছে। যদি পানির চাপে সেটুকুও ভেঙে যায় তাহলে নাংলা, ছুটিপুর, ঘোনাপাড়সহ কয়েকটি গ্রাম ইছামতি নদীর পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। নষ্ট হতে পারে ফসল। এমন অবস্থায়ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এলাকাবাসী বলছেন, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ এবং গুটিকয়েক মানুষের ঠেলা জাল নদীতে ফেলার কারণে দেবহাটা উপজেলার চরকোমরপুর, ভাতশালা, টাউনশ্রীপুর, সুশীলগাতী, শিবনগর ও নাংলাসহ কয়েকটি স্থানের ভেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছরে যে সামান্য সংস্কার কাজ করা হয়েছিল সেসব স্থান ছাড়াও নতুন নতুন স্থানে আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে।
গ্রামবাসী জানান, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোক ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীপাড় থেকে বালি তোলার কারণে নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার সুশীলগাতি এলাকায় মেশিনের সাহায্যে বালি তোলা হচ্ছে। বড় কোনো জোয়ার বা বৃষ্টি হলেই বাঁধ যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের মধ্যে রয়েছে নাংলা ছুটিপুর, সুশীলগাতী এলাকার বিজিবি পোস্টের সামনে, টাউনশ্রীপুর ও ভাতশালা। ভাতশালা থেকে খানজিয়া পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা ড্রেজার লাগিয়ে বালি উত্তোলন করছেন। কিন্তু বালি ব্যবসায়ীদের এই কাজ বন্ধ করার মতো কেউ নেই।
তাদের বক্তব্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে থাকে। পাউবো মাঝে মাঝে সংস্কার কাজ করে। কিন্তু সেটাও নামমাত্র। তার মধ্যে এভাবে প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি ও নদীর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রশাসন নীরব রয়েছে।
গ্রামবাসী আরো জানান, চিংড়িচাষিরা খেয়াল-খুশিমতো মূল বাঁধের গা-ঘেঁষে ছোট বাঁধ দিয়ে মূল বাঁধের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। বেড়ি বাঁধের গা-ঘেঁষে পোনা ধরা এবং বালি তোলার কারণে বাঁধগুলো ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের শিবনগরের পাশে রাজনগর মৌজা ইছামতির গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কয়েকদিন আগে এ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ মুজিবর রহমান জানান, নাংলা এলাকার বাঁধ সংস্কারের বিষয়ে তিনি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রুহুল হককে নিয়ে সরেজমিনে দেখিয়েছেন এবং সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছেন। কিন্তু তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ১ এর আওতাধীন তিন নম্বর পোল্ডারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ওবায়দুল হক মল্লিক জানান, নাংলা এলাকার বাঁধ সংস্কারে এবং পাকা ব্লক দেওয়ার জন্য প্রজেক্ট জমা দেওয়া আছে। বাজেট পাওয়া গেলেই কাজ শুরু করা হবে।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ জানান, তিনি ইতিমধ্যে বাঁধ সংস্কারের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত গ্রামবাসী নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে দেশের ভূখণ্ড রক্ষাসহ তাদের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা প্রদানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন