ভাতা বা দশ টাকার কার্ড জোটেনি রুনির

আপডেট: 05:51:56 21/11/2016



img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : নাম রুনি বিবি (৯০)। ৩৫ বছর আগে বিধবা হয়েছেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। লাঠিতে ভর করে অনেক কষ্টে চলাফেরা করেন তিনি।
এক সময় স্বামী-সন্তান সবই ছিল তার। কালের ধারায় চলে গেছেন ইহজগত ছেড়ে সবাই। আপন বলতে আজ কেউ নেই তার এ পৃথিবীতে।
রুনি বিবি উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বড়খানপুর গ্রামের মৃত মকবুল হেসেনের স্ত্রী। বর্তমানে থাকেন ওই ইউনিয়নের পেটভরা আবাসন প্রকল্পের দুই নম্বর ব্যারাকের পাঁচ নম্বর রুমে। যেখানে অনাহারে-অর্ধহারে জীবন কাটছে তার।
আবাসনের কেউ যদি দয়া করে দুমুঠো ভাত দেন সে দিন পেটের ক্ষুধা মেটে। না দিলে অনাহারে কেটে যায় রাতদিন রুনি বেগমের। অথচ ভাগ্যে জোটেনি তার বয়স্ক, বিধবাভাতা কিংবা দশ টাকা চালের কার্ড।
নাম ঠিকানা লিখতে দেখে ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে রুনি বেগম জানান, অনেকবার নাম নিখে (লিখে) নিয়ে গিছে (গেছে), কোনো কিছু দেয় না। নিখে টিকে আর কী হবে? বাবা অনেকে টেকা (টাকা) পায়, চাল পায় আমাগো পেতে আর কয় বয়স (কত বছর) হতে হয়।
রুনি বিবির বিধবা, বয়স্ক কিংবা দশ টাকা চালের কার্ড না পওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে পেটভারা গ্রামের ইউপি সদস্য মোস্তাক আলী বলেন, ‘আমি নতুন মেম্বার হয়েছি। তবে সম্ভবত উনি আমার ওয়ার্ডের না। যদি আমার ওয়ার্ডের হয় তাহলে আগামীতে সুযোগ এলে রুনি বিবির বয়স্কভাতার কার্ড করা হবে।’
নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন মুকুল বলেন, ‘স্ব-স্ব ওয়ার্ড মেম্বরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। বিষয়টি আমি জেনেছি। আগামীতে নতুন কার্ড দেওয়ার সুযোগ এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রুনি বেগমের বয়স্ক অথবা বিধবা ভাতার কার্ড করা হবে।’