ভারতজুড়ে দলিত বিক্ষোভ, নিহত ৭

আপডেট: 01:26:51 03/04/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় নিয়ে ভারতজুড়ে দলিতদের ধর্মঘটের মধ্যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।
সংঘর্ষে মধ্যপ্রদেশে পাঁচ জন এবং রাজস্থানের আলওয়ার ও উত্তর প্রদেশের মুজাফরনগরে একজন করে নিহত হয়েছেন। পাঞ্জাব এবং ঝাড়খন্ডেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঞ্জাবে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, সড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে।
স্থানীয় সরকার এদিন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে এক ছাত্র নেতাসহ পাঁচজন নিহত হন।
রাজস্থানের জয়পুর, আলওয়ারসহ কয়েকটি শহরে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলছে। ঝাড়খন্ডের রাজধানী রাঁচিতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করেছে।
বিক্ষোভকারীরা রেললাইন অবরোধ করায় বিহার, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব ও রাজস্থানের কিছু কিছু এলাকায় রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
গত ২০ মার্চ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এসসি/এসটি (নৃশংসতা প্রতিরোধ ) আইনে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পরিবর্তনের আদেশ দেন।
অতীতে এ আইনের ‘অপব্যবহার হয়েছে’ বর্ণনা করে আদালত আইন সংশোধন করে এসসি/এসটি আইনের অধীনে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করা এবং জামিনের বিধান সংযোজনের আদেশ দেন।
ভারতে শুধুমাত্র বর্ণবিদ্বেষের কারণে অনেক অপরাধ হয়। সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালে নিম্নবর্ণের মানুষদের বিরুদ্ধে ৪০ হাজারের বেশি অপরাধ সংগঠিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিম্নবর্ণের মানুষদের সুরক্ষায় ১৯৮৯ সালে ভারতের পার্লামেন্টে এসসি/এসটি অ্যাক্ট পাস হয়।
দলিত নেতারা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের কারণে এখন তারা ‘অরক্ষিত’ বোধ করছেন।
‘অল ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন ফর লোয়ার কাস্ট’ এর মহাসচিব কেবি চৌধুরি বলেন, “এসসি/এসটি অ্যাক্টের মাধ্যমে ভারতে দলিতদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ওই আইনে আমাদের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যে কোনো বৈষম্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কারণে এখন ওই আইনি সুরক্ষা শেষ হয়ে যাবে। আমরা সবাই দুঃখী এবং বিমর্ষ হয়ে পড়েছি।”
সূত্র : এনডিটিভি, বিডিনিউজ

আরও পড়ুন