ভারতীয় হামলার সফলতা দাবি ভুয়া ছবি দিয়ে

আপডেট: 03:46:25 07/03/2019



img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বিমানহামলা নিয়ে দেশটির ইউনিয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের একটি টুইট ভারতে ভাইরাল হয়েছে।
টুইটে সংযুক্ত ভিডিওতে দাবি করা হয়, ভারতীয় বিমানবাহিনীর ওই হামলায় একটি জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস হয়েছে। ভারতের একটি নামকরা টেলিভিশন চ্যানেলে ভিডিওটি সম্প্রচার করা হয়।
ভিডিওতে বালাকোটের দুটি স্যাটেলাইট চিত্র দেখানো হয়, যার প্রথমটি বিমানহামলার আগের এবং অপরটি হামলার পরের চিত্র বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টুইটার এবং ইউটিউবে ভিডিওটি লক্ষ লক্ষ বার দেখা এবং শেয়ার করা হয়েছে।
ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে জঈশ-ই-মোহাম্মদের দাবিকৃত হামলায় ৪০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর ভারত ওই বিমানহামলা চালায়।
তবে হামলার সফলতা প্রমাণের উদ্দেশ্যে তৈরি ঐ ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

ছবিগুলো কি আসলেই সত্যি
ভিডিওর প্রথম স্যাটেলাইট চিত্রটি হামলার আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
দ্বিতীয় ছবিটি ২৬ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ হামলার পরে ধারণ করা বলে দাবি করা হয়; যেটি ভারতীয় যুদ্ধবিমানের হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ছবি বলে দাবি করা হয়।
তবে বিবিসির ফ্যাক্টচেক দলের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, দ্বিতীয় ছবিটি বেশ কয়েক বছর আগে ধারণ করা।
ভিডিওতে দেওয়া অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশের সাহায্যে আমরা দেখেছি যে, ছবিটি নেওয়া হয়েছে "জুম আর্থ" ওয়েবসাইট থেকে; মাইক্রোসফটের বিং ম্যাপের স্যাটেলাইট ছবির ওয়েবসাইট এটি।
ওয়েবসাইটটির প্রতিষ্ঠাতা পল নিভ বলেছেন, ওই ছবিটির সঙ্গে বিমানহামলাকে সংযুক্ত করার সুযোগ নেই।
"হ্যাঁ, ভবনটিতে বোমাহামলার প্রমাণ হিসেবে ছবিটি ব্যবহৃত হচ্ছে, কিন্তু ঘটনা আসলে সেটা নয়। এই ছবিটি সম্ভবত বেশ কয়েক বছরের পুরনো এবং তাতে দেখা যাচ্ছে, ভবনটির নির্মাণকাজ চলছে, "তিনি বলেন।
ওয়েবসাইটটি বলছে, শুধু মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ছবিগুলোই (যেখানে মেঘ দেখা যাচ্ছে) প্রতিদিন আপডেট করা হয়। বিং ম্যাপের ছবিগুলো নিয়মিত আপডেট হয় না এবং কয়েক বছরের পুরনো।
বিষয়টি নিয়ে মি. নিভ নিজেও টুইট করেন।
জুম আর্থের মাধ্যমে যে কেউ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট এলাকার ছবি খুঁজে নিতে পারেন। আমরা দেখেছি, দ্বিতীয় ছবিটি ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সার্চ করলে খুঁজে পাওয়া যায়।
এদিকে প্রথম ছবিটি এখনো গুগল আর্থে রয়েছে।

ভবন অক্ষত থাকার চিত্র
এদিকে মার্কিন প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেট ল্যাবসের প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, 'জঈশ-ই-মোহাম্মদের পরিচালিত একটি মাদরাসা' অক্ষত রয়েছে।
ছবিটি ৪ মার্চ ধারণ করা বলে জানাচ্ছে প্ল্যানেট ল্যাবস।
মাদরাসাটি জঙ্গিগোষ্ঠীটির সঙ্গে যুক্ত কিনা তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে ছবিতে যে ভবনটি দেখা যাচ্ছে সেটিই ধ্বংস করার দাবি করেছিল ভারত।
সূত্র : ফ্যাক্টচেক টিম, বিবিসি

আরও পড়ুন