ভালো থেকো মিঠু ভাই

আপডেট: 02:32:54 06/03/2018



img

তারেক মাহমুদ

আর কোনো দিন মিঠু ভাইয়ের সাথে দেখা হবে না। ফোন করে আর কোনো দিন জানতে চাইবেন না, ‘কোথায় আছো? কেমন আছো? কোনো সমস্যা নেই তো?’ ভুল হলে আর কখনোই রাগ দেখাবেন না। যেখানে সংবাদ সেখানে আর মিঠু ভাইকে দেখা যাবে না।
গতকাল সোমবার আমাদের কাঁদিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন আমাদের মিঠু ভাই; যেখান থেকে কখনো কেউ আর ফিরে আসে না। সোমবার ভোররাত চারটার দিকে ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনসটিটিউটে মিঠু ভাই মারা যান।
স্বপ্নের নতুন বাড়িতে থাকার সুযোগ পেলেন না তিনি। তার সব সম্বল দিয়ে সম্প্রতি বলিদাপাড়া হাঙ্গারফ্রি ওয়ার্ল্ড অফিসের পাশে চিত্রা নদীর ধারে বাড়ি তৈরি করছিলেন মিঠু ভাই। বাড়ির কাজও প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু কে জানে তার বসবাসের স্থান আজ থেকে হবে অন্ধকার কবর! এইতো ক’দিন আগেও আমি তার নবনির্মিত বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমাকে বাড়ির সব দেখিয়েছিলেন। সবশেষে আমাকে একটি বেডরুমের সাথে অ্যাটাস্ট একটি ছোট্ট রুম দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘এটা আমার কম্পিউটার রুম। তোমার ভাবির যেন ঘুমের সমস্যা না হয় এজন্য রাতে আমি এখানে বসে নিরিবিলি কাজ করবো। ভালো হবে না?’ আমি হ্যাঁ-সূচক মাথা নেড়েছিলাম। কিন্তু মিঠু ভাইয়ের সে স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলো। সব ঠিকঠাকই রয়েছে। শুধু তুমি ফাঁকি দিয়ে কোথায় চলে গেলে মিঠু ভাই?
সংবাদপত্রে কাজ করার সুবাদে মিঠু ভাইয়ের সাথে পরিচয় দীর্ঘদিনের। দেখেছি, কেউ কোনো বিপদে পড়লে সেটা নিজের বিপদ মনে করে ঝাঁপিয়ে পড়তেন মিঠু ভাই। আমি লেখালেখির কাজ করতে গিয়ে অনেকবার বিপদে পড়েছি। মিঠু ভাইকে জানানোর আগেই কীভাবে যেন সব জেনে যেতেন তিনি। নিজে থেকে ফোন দিয়ে বলতেন, ‘কোনো সমস্যা না। আমি সব ম্যানেজ করছি।’
মিঠু ভাই এরকম কাজ সবার ক্ষেত্রেই করতেন। এটা যেন তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।
মিঠু ভাই এভাবে সাততাড়াতাড়ি চলে যাবেন, আমরা কেউ তা কল্পনাও করিনি। তার জন্য কেউ কিছু করার সুযোগও পেলাম না।
মিঠু ভাই, তোমার কাছে আমাদের চাওয়া একটাই- যেখানেই থাকো, ভালো থেকো।
লেখক : সাংবাদিক