ভাড়াটে খুনি ডেকে পাওনাদারকে হত্যা

আপডেট: 04:01:06 06/12/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : আমেরিকা যাওয়া হলো না সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মচারী জাহিদুল ইসলাম জাহিদের (৩২)। পাওনা টাকা নিতে গিয়ে পাওনাদারের ভাড়াটে খুনির হাতে জীবন গেল তার।
ঘটনাটি ঘটেছে শার্শা উপজেলার কাজিরবেড় গ্রামে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে কাজীরবেড় গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে জাহিদের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বেনাপোল পোর্ট থানার নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার তরফদারের ছেলে এবং বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘সেজুঁতি এন্টারপ্রাইজের’ ম্যানেজার। এঘটনায় অভিযুক্ত একই পরিবারের পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, জাহিদ আমেরিকা যাওয়ার জন্য চার লাখ টাকা দিয়েছিলেন আদম ব্যাপারি কাজিরবেড় গ্রামের ঝড়ু দালালের স্ত্রী বিউটি খাতুনকে। পরে তাকে বিদেশ না পাঠিয়ে টালবাহনা শুরু করা হয়। বিউটি বুধবার রাতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নেয় জাহিদকে। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিউটি যশোর থেকে চার ভাড়াটে কিলার এনে বাসায় সাউন্ড বক্সে উচ্চশব্দে গান-বাজনা শুনতে থাকে। পরে জাহিদকে বাথরুমে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশটি বস্তাবন্দি করে পাশের একটি কলাবাগানে ফেলে দেয়।
রাতে বাসায় না ফেরায় জাহিদের বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজির শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা বিউটির বাসায় আসেন। কিন্তু বিউটি সোজা জানিয়ে দেয়, জাহিদ আসেনি। পরে শার্শা থানা পুলিশে অভিযোগ করে জাহিদের পরিবার।
বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে জাহিদকে খুন করা হয়েছে। পরে বাড়ির পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ছয়জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন, ঝড়ুর স্ত্রী বিউটি খাতুন (৪৭), মেয়ে সুমী খাতুন (২৯), মুক্তার আলীর স্ত্রী রহিমা বেগম (৬৫), খালিদের স্ত্রী ফেরদৌসী (৩৭) ও ছেলে আল-আমিন (১৮)। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ খুনের আলামত উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও এলাকার লোকজন আরো জানায়, বিউটি খাতুন ও মেয়ে সুমী খাতুন বেপরোয়া চলাফেরা করে। এমন কোনো অসামাজিক কাজ নেই, যা তারা করে না। এলাকার লোকজন ভয়ে কিছু বলার সাহস পান না। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করায় চার বছর আগে নিজ ছোট সন্তান রুমিকে হত্যা করে লাশ বাড়িতে ঝুলিয়ে রেখে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করে বিউটি খাতুন ও তার বড় মেয়ে সুমী খাতুন। সেই ঘটনায় শার্শা থানায় একটি মামলা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মসিউর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি তারা ভাড়াটে কিলার এনে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী জাহিদকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তার শরীরে কোপানোর অসংখ্য দাগ রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে যশোর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আটক করা হয়েছে ওই পরিবারের পাঁচজনকে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
চার বছর আগে খুন হওয়া রুমির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন