ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট: 04:44:40 01/04/2019



img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় কালিগঞ্জে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। ভিকটিমের নাম ফাতেমা তুজ জোহরা চামেলি (২৮)।
রোববার রাতে তার এই মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তারা সংশ্লিষ্ট ডাক্তার আকসেদুর রহমানের বিচার দাবি করেছেন।
গৃহবধূ চামেলি কালিগঞ্জের নলতা গ্রামের লিয়াকত হোসেনের মেয়ে। তিনি ছিলেন শ্যামনগরের কুপোট গ্রামের ফজলুর রহমান আকাশের স্ত্রী।
রোববার বিকেলে প্রসব যন্ত্রণা উঠলে তাকে ভর্তি করা হয় কালিগঞ্জের আহছানিয়া মিশন চক্ষু ও জেনারেল হাসপাতালে। সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি করাতে তাকে নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। ওই হাসপাতালের পরিচালক ডা. আকসেদুর রহমান তাকে সিজার করেন।
চাচা আবদুল মান্নান বলছেন, ‘চামেলিকে বিকেলে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও টানা চার ঘণ্টা কোনো খবর আমরা পাচ্ছিলাম না। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাকে ওটি থেকে বের করে এনে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানো হচ্ছিল। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে বলা হয়, তার অবস্থা ভালো নয়, খুলনায় নিতে হবে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের চাপের মুখে তাকে দেখতে দেওয়া হয়।’
মান্নান জানান, তারা দেখতে পান চামেলি মারা গেছে।
এ খবর প্রচার হতেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের লোকজন এদিক ওদিক পালিয়ে যেতে থাকেন। ডা. আকসেদুর রহমান নিজেই রুমের দরজা বন্ধ করে পালিয়ে থাকেন। পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও স্থানীয়রা সংশ্লিষ্টদের ওপর চড়াও হন। তারা এর বিচার দাবি করেন। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ আসে।
মান্নানের অভিযোগ, পুলিশ লাশ দেখেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। স্থানীয় সাবেক মেম্বর আনিসুজ্জামান খোকন আহছানিয়া মিশনের সদস্য হওয়ায় প্রভাব সৃষ্টি করে তাদের সরিয়ে দেন। রাত ১১টার দিকে তারা চামেলির লাশ বাড়ি নিয়ে যান।
আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমরা আর থানা পুলিশ করতে সাহস করিনি। কারণ আহছানিয়া মিশনের এনামুল সাহেব ও সাবেক মেম্বর খোকন প্রভাব সৃষ্টি করে আমাদের থামিয়ে দিয়েছেন। আজ দুপুরে মেয়েটির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি আফসোস করে বলেন, ‘আমরা মেয়েটির পেটের সন্তানটি বের করার অনুরোধ জানিয়েও ব্যর্থ হয়েছি। একই সাথে আমরা দুটি জীবন হারালাম। আর এর জন্য দায়ী ডা. আকসেদুর রহমান।’
এসব বিষয়ে জানতে ডা, আকসেদুর রহমানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তার দুটি ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়।
কালিগঞ্জ থানার ওসি হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নিতে পারি।’

আরও পড়ুন