ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা

আপডেট: 03:31:36 07/04/2019



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ছাত্রআন্দোলনের মুখে ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। এতে অনিশ্চয়তার পড়েছে কলেজের সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে ১ মার্চ থেকে কর্তৃপক্ষ কলেজটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এর পর গত এক মাসের অধিক সময় ধরে কলেজের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর ফলে কলেজটি সেশনজটসহ নানা সমস্যায় পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
কলেজটি শুরুর পর থেকেই ছাত্রআন্দোলনের মুখে পড়ে। প্রথমে তারা এ কলেজটি স্বতন্ত্র, পরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পৃথক ফ্যাকাল্টি করার দাবি করেন। এই নিয়ে তারা প্রায়ই বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিও পালন করে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা মূল দাবির সঙ্গে আরো কয়েকটি দাবি যুক্ত করেন। প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনের তালা ঝুলিয়ে কলেজটি অচল করে দেন তারা। শিক্ষকদের মাঝে ভয়ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ছাত্ররা দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একপক্ষের নেতৃত্ব নেন কলেজটির ছাত্রলীগ নেতা লুবান মাহমুদ মিশুক, অন্যপক্ষে ফাহিম হোসেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় ছাত্রলীগের মধ্যে বিরোধ। ঘটে সংঘর্ষের ঘটনা। এতে আহত হন প্রায় দশ ছাত্র। অবশেষে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে কলেজটিতে বাংলাদেশ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশেষ প্রকল্পের আওতায় পাঠদান করা হয়। ইতিমধ্যে ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তারপরও মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদভুক্ত কিংবা স্বতন্ত্র কলেজ হিসেবেও এগোতে পারছে না। সব মিলিয়ে কলেজটি এখন চরম অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে ।
ঝিনাইদহ শহর থেকে নয় কিলোমিটার দূরে হলিধানি এলাকায় দুটি প্রকল্পের আওতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কলেজটি স্থাপিত হয়। ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র ভর্তি করে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। তখন স্থানীয় ছয়জনকে অতিথি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া ডেপুটেশনে আসা আরো ১৯ জন কর্মকর্তা পাঠদান ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ছয় ব্যাচে সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রণব সাহা বলেন, ‘দক্ষ প্রাণী চিকিৎসক হওয়ার আশায় এই কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন সে স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কলেজটিতে সুন্দর অকাঠামো আছে। এখানে দক্ষ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং শিক্ষা উপকরণের অভাব রয়েছে। ল্যাবরেটরি আছে কিন্তু রাসায়নিক উপকরণ নেই। ইন্টার্ন প্রাণী চিকিৎসকদের কোনো সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা নেই।’
শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান জানান, এই কলেজটিতে কোনো অধ্যাপক কিংবা সহযোগী অধ্যাপক নেই। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ও অতিথি শিক্ষক দিয়ে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আবার কলেজটি পরিচালনার কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালাও নেই। যার ফলে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুতেই নানা সমস্যার সম্মুখীন।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অনেক দিনের দাবি, ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি কলেজটি যবিপ্রবির অনুষদভুক্ত করার। আমাদের দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই। কলেজটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদভুক্ত হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে পরিচালিত হবে।’
শিক্ষার্থী ওবাইদুল্লাহ ও সোহাগ তালুকদার জানান, ছাত্রলীগের দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। এক মাস যাবত ক্লাস হচ্ছে না, পরীক্ষা হচ্ছে না। পিছিয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এতে সেশনজটসহ নানা সমস্যায় পড়তে হবে।
ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. অমলেন্দু ঘোষ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি লিখিতভাবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী কার্যক্রম।’
‘অন্যদিকে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারির ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। তবে আশা করছি, দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করে কলেজের সকল কার্যক্রম শুরু করা যাবে,’ বলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

আরও পড়ুন