ভোক্তাস্বার্থে নিবেদিত এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

আপডেট: 08:25:00 09/09/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : আনিসুর রহমান। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। যশোর জেলা প্রশাসনে কাজ করেছেন মাত্র এক বছর দুই মাস।
স্বল্প এই সময়কালে তিনি ১৬৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এর মাধ্যমে আনিসুর রহমান এই জনপদের ভোক্তা-ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছিলেন। ভোক্তা-ক্রেতাদের স্বার্থবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তিনি আদায় করেছেন লাখ লাখ টাকা রাজস্ব; যা স্ফীত করেছে সরকারি কোষাগার।
ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যশোর থেকে বদলি হয়েছেন। যাওয়ার আগে তিনি দখলমুক্ত করেছেন সরকারি ভূমি, বন্ধ করে দিয়েছেন অবৈধ হাট। উচ্ছেদ করেছেন নদী দখল করা পাটা।
যশোর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছর জুলাই মাসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যশোরে যোগদান করেন আনিসুর রহমান। যোগদানের পর থেকে গত আগস্ট পর্যন্ত তিনি নকল লুব্রিকেন্ট কারখানা, নকল সার কারখানা, ক্ষতিকর আইসক্রিমসহ খাদ্যপণ্য কারখানাসহ বিভিন্ন স্থানে ১৬৬টি অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসব অভিযানে তিনি অসাধু কারবারিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ৩৮৫টি। আর এসময় জরিমানা আদায় করেছেন ৪৭ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ টাকা।
এক বছর দুই মাসের দায়িত্বকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে, যশোরস্থ ভারতীয় ভিসা সেন্টার ও যশোর জেনারেল হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা। ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান চালান বিভিন্ন বেকারি, আইসক্রিম ফ্যাক্টরি, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মাংসের দোকানে। বিশেষ করে শহরের কাঠের পুল এলাকায় মৃত গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করার ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরে তিনি ক্রেতাদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। অভিযান চালিয়ে ভৈরব নদের সাত কিলোমিটার বাঁধ অপসারণের পাশাপাশি উচ্ছেদ করেন অবৈধ পাটা। কেশপুরের ভরতভায়না ও সন্ন্যাসগাছায় অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করেন সরকারের ১৩১ শতক জমি। চৌগাছার বহুল আলোচিত পশুহাটটিও উচ্ছেদ করেন তিনি। তার এসব তৎপরতায় সামগ্রিকভাবে উপকৃত হন যশোরবাসী।
এসব অভিযানে তিনি যশোর জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সহযোগিতা পেয়েছেন। মাঠপর্যায়ে তাকে সহযোগিতা করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, র‌্যাব-পুলিশ সদস্য ছাড়াও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) যশোরের সংগঠকরা।
বিদায়লগ্নে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমি আমার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। সবার সহযোগিতা পেয়েছি। কোন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপা আসেনি। এজন্য ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য কাজ করা সহজ হয়েছে। আমরা ভোক্তা অধিকারকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চেষ্টা করেছি।’
আনিসুর রহমান তার যশোরে কর্মকালে যাদের সহযোগিতা পেয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন