ভয়ে কলেজে যাওয়া বন্ধ কন্ডোলিজা শিলার

আপডেট: 07:50:50 13/09/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী গিলাপোল গ্রামে চাঁদার দাবিতে ইউপি সদস্য ও শার্শা উপজেলা যুবলীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম মিলন বাহিনী কর্তৃক সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সলমন দাসের বাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তার পরিবার।
বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর ও সাতক্ষীরা থেকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ও সাউথ এশিয়ান ক্রাইম ওয়াচের একটি প্রতিনিধি দল সলমন দাসের বাড়ি পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেন।
এদিকে নিরাপত্তার কারণে সংখ্যালঘু এই পরিবারের ছাত্রী কন্ডোলিজা শিলার কলেজ যাওয়া বন্ধ হয় গেছে। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে পরিবারের অন্য সদস্যরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। হামলার ঘটনায় ১৭ জনকে আসামি করে শার্শা থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার পর পুলিশ আটজনকে গ্রেফতার করলেও পরদিনই তারা জামিনে বেরিয়ে আসে। অন্যদিকে মামলার বাদী ও আসামি উভয়ই ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার আস্থাভাজন হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনও এ ব্যাপারে নাক গলাচ্ছেন না বলে নানা সূত্রে জানা গেছে। 
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় চেয়ারম্যান আইনাল হক ও ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম মিলন উভয়ই ক্ষমতাসীন দলের এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের সমর্থক। তবে নানা কারণে দুইজনের মধ্যে দ্ব›দ্ব থাকায় একে অপরকে সহ্য করতে পারেন না। কাকে কীভাবে ফাঁসানো যায় তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে তারা। কেউ চাঁদা আদায়, কেউ বিচারের নামে চাঁদাবাজি, জমি দখল করে থাকেন। খ্রিস্টান পরিবার সলমন দাস চেয়ারম্যানের সমর্থক। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে অনেক অভিযোগ। মূলত এ সব নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পরিবারটির ওপর ফের হামলা হতে পারে বলে সলমন দাস মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই সমীরকুমার হোড়কে অভিযোগ করলেও কোনো কাজ হয়নি। বরং মোটরসাইকেলে চড়ে ৮-১০ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী তার বাড়ির চারপাশে ঘোরাফেরা করছে বলে তার অভিযোগ। হামলার পর থেকে এখনো প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যাননি বলে অভিযোগ করেন সলমন দাস।
তিনি আরো বলেন, তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ইউপি সদস্য মিলন বারবার হুমকি দিচ্ছে।
এলাকার লোকজন জানান, ২০০৮ সাল থেকে মিলন মেম্বার উলাশী গ্রামে ৭০/৮০ বিঘা জমির ওপর ‘নীলকুঠি’ নামে একটি পার্ক তৈরি করেন। সেখানে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। ৩৩ জন গ্রামবাসীর ৩৫ বিঘা জমি দখল করে পার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করেন মিলন। সেই সঙ্গে উলাশী বাজারে জিয়া মঞ্চের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে কালু ও দীপকের কাছ থেকে নেওয়া হয় মোটা টাকা।
দীর্ঘদিন ধরে মিলন বাহিনী সলমনের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেওয়ায় এই পরিবারকে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও একবার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। আর এসবের মদতদাতা হিসেবে উঠে এসেছে আর এক ইউপি সদস্য কাশেম শিকদারের নাম।
এ ব্যাপারে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মশিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি স্পর্শকাতর। থানায় মামলা হওয়ার পর আটজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তারা জামিনে বাড়ি এসেছে শুনেছি। গ্রামে পুলিশি টহল রয়েছে। আর কোনো ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই।’

আরও পড়ুন