মণিরামপুরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজড

আপডেট: 07:02:57 12/09/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল গফ্ফারকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তাকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। আজ বুধবারের মধ্যে তাকে সেখানে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শুভ্রারানী দেবনাথকে মণিরামপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এরআগে গত সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসক) ডা. এবিএম মুজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত রিলিজ অর্ডার হাতে পান আব্দুল গফ্ফার। আদেশপ্রাপ্তির তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে শ্যামনগরে যোগদানের কথা বলা হয়েছিল। আদেশ অনুযায়ী পত্র পাওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে তিনি আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রেহনেওয়াজের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে এই সংক্রান্ত কাগজপত্র যশোর সিভিল সার্জনের দপ্তরে পাঠিয়েছেন। সিভিল সার্জন ডা. দিলীপকুমার রায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি অতি গোপনীয় হওয়ায় তা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেরিতে পৌঁছেছে।
ডা. আব্দুল গফ্ফার গত বছরের ২৪ আগস্ট মণিরামপুরে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে।
হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আব্দুল গফ্ফারের নওয়াপাড়ায় ‘ডর্ক্টস ক্লিনিক’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই ক্লিনিকে মণিরামপুরের ভরতপুরের এক প্রসূতিকে অপারেশন করার সময় পেটে গজ-বেন্ডেজ রেখে সেলাই করা হয়েছিল। একপর্যায়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়। পরে সিভিল সার্জন গিয়ে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেন। বর্তমানে ক্লিনিকটি বন্ধ আছে।
অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল গফ্ফার মণিরামপুরে যোগদানের পর থেকে প্রতিদিন হাসপাতালে আসার সময় ওই ক্লিনিকের অ্যাম্বুলেন্স সঙ্গে নিয়ে আসতেন। এসেই ওয়ার্ডে রাউন্ডে চলে যেতেন তিনি। রাউন্ডে গিয়ে গুরুতর রোগীদের তিনি নিজ ক্লিনিকে রেফার করতেন। আর রোগীদের কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার হলেও তাদের নওয়াপাড়ায় নিজের ক্লিনিকে পাঠাতেন তিনি।
এদিকে হাসপাতালের বেড খালি থাকলেও সেগুলোতে রোগী ভর্তি দেখাতে নার্সদের বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে আব্দুল গফ্ফারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হচ্ছে, খালি বেডে রোগী ভর্তি দেখিয়ে তাদের জন্য বরাদ্দ খাবারের টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া রোগীদের মাঝে নিম্নমানের খাবার বিতরণ, দেরিতে কর্মস্থলে আসা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগতো তার বিরুদ্ধে রয়েছেই।
অভিযোগ রয়েছে, ডা. আব্দুল গফ্ফার মণিরামপুর হাসপাতালে যোগদানের পর থেকে এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। নিজের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থাকায় তিনি কোনো চিকিৎসককে দিয়ে হাসপাতালে যথাযথভাবে ডিউটি করাতে পারেননি। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পড়তে হয়েছে বিপাকে। অনেকেই পাননি কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা। আবার সম্প্রতি মণিরামপুর হাসপাতাল থেকে নবজাতক গায়েব হওয়ার ঘটনার তদন্ত হলেও এখনো সেই শিশুর পরিচয় পাওয়া যায়নি। নবজাতকটি কোথায় কীভাবে আছে, সেটাও জানা যায়নি। ফলে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে আব্দুল গফ্ফারকে। এসব অভিযোগে আব্দুল গফ্ফারকে মণিরামপুর ছাড়তে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি।
জানতে চাইলে ডা. আব্দুল গফ্ফার বলেন, ‘বদলির আদেশ এসেছে। এখনো মণিরামপুর ছাড়িনি। শ্যামনগরে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
যদিও তাকে বুধবার মণিরামপুরে অফিস করতে দেখা যায়নি।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপকুমার রায় বলেন, ‘সোমবার রিলিজ অর্ডার হাতে পেয়েছেন আব্দুল গফ্ফার। চিঠিতে তাকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে মণিরামপুর ছেড়ে শ্যামনগরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে তিনি আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রেহেনেওয়াজকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে রিলিজ নিয়েছেন। এই সংক্রান্ত কাগজপত্র আমার অফিসে পৌঁছেছে।’

আরও পড়ুন