মণিরামপুরে আ’লীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া, বোমা ভাংচুর

আপডেট: 08:51:20 01/09/2019



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (১সেপ্টেম্বর) দুপুরে মণিরামপুর পৌর এলাকার দক্ষিণমাথা বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ১০-১২টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দু’পক্ষ একে অপরের নামে হামলা ভাংচুরের অভিযোগ এনেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩১ আগস্ট দুপুরে মণিরামপুর পৌরসভা চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে শোকসভার আয়োজন করে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য ও তার পরিবার নিয়ে সমালোচনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলুসহ বক্তারা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয় প্রতিমন্ত্রীর অনুসারীরা। আজ সকালে প্রতিমন্ত্রীর অনুসারীরা শহরে মহড়া দেয়। এরপর দুপুরের দিকে অনুসারীদের নিয়ে বাজারে আসেন আমজাদ হোসেন লাভলু। তিনি নিজের ব্যবহৃত জিপ গাড়ি নিয়ে বাজারের দক্ষিণ মাথা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছুলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। একপর্যায়ে আমজাদ হোসেন লাভলুর ব্যবহৃত জিপ গাড়ির পেছনের অংশের গ্লাস এবং পূবালী ব্যাংক মণিরামপুর শাখার গ্লাস ও এসি ভাংচুর করা হয়।
এ ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছুলে উভয়পক্ষ সরে যায়।
জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এ প্রতিনিধিকে বলেন, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও মন্ত্রীর ভাগ্নে উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু, পৌর যুবলীগের সেক্রেটারি রবিউল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ১০-১২টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেন। ওইসময় তারা লাভলু ভাইয়ের গাড়িসহ ব্যাংকেরও ক্ষতিসাধন করে।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, যুবলীগের আহ্বায়ক উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু এ প্রতিনিধিকে বলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলুসহ তার সশ্রস্ত্র ক্যাডাররা শান্তিপ্রিয় জনগণের উপর হামলা চালায়। ওইসময় তার লাইসেন্সকৃত শর্টগান থেকে তিন রাউন্ড গুলিও বর্ষণ করা হয়। আমরা স্থানীয় জনতার সহায়তায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে তাদের হটিয়ে দিয়েছি মাত্র।
একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লাভলুর ক্যাডাররা বোমা ফাটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে উল্টো আমাদের নামে দোষ দিচ্ছে।
মণিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনও পক্ষই থানায় অভিযোগ করেননি।

আরও পড়ুন