মণিরামপুরে ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসেবা

আপডেট: 03:17:38 20/03/2019



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দোতলা ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের গায়ে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের রোগীরা।
বহুদিন ধরে হাসপাতালের ভবনটির ছাদের এমন চিত্র থাকলেও তা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। দ্রুত ছাদ সংস্কার করা না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রোগী ও তাদের স্বজনদের।
বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরনো দোতলা ভবনটির ওপরের তলায় নারী ও শিশু ওয়ার্ডে রয়েছে ৩১টি বেড। নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বেডগুলোতে ভর্তি রয়েছেন রোগীরা। প্রতি রোগীর সঙ্গে রয়েছেন দুই-একজন করে স্বজন। হাসপাতালের ওয়ার্ড দুটির ছাদের ও ভিমের পলেস্তরা বিভিন্ন স্থানে খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও পলেস্তরা খসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বেডগুলোতে শুয়ে আছেন রোগীরা। ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত কয়েকজন সেবিকা।
হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ২৬ নম্বর বেডে ভর্তি রয়েছেন উপজেলার খালিয়া গ্রামের গৃহবধূ পারভীনা বেগম। তার বেডের ঠিক ওপরে ছাদের বিম খসে রড বেরিয়ে পড়েছে।
পারভীনা বলেন, ‘গত আট দিন ধরে এই বেডে রয়েছি। ছাদের অবস্থা দেখলে ভয় লাগে। কখন যে ভেঙে গায়ে পড়ে তা নিয়ে চিন্তা হয়।’
পারভীনার পাশের ২৭ নম্বর বেডের রোগী আসুরা। তিনি রোববার থেকে হাসপাতালে ভর্তি। তার বেডের ওপরে ছাদের বিম খসে একই অবস্থা।
হাসপাতালের মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত স্টাফ নার্স বন্দনারানি বলেন, ভবনের দুই ওয়ার্ডেরই ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। ২-৩ বছর ধরে ভবনের ছাদের খারাপ অবস্থা। কয়েকদিন আগে রোগীদের দুই স্বজনের পাশে পলেস্তরা খসে পড়েছিল। অল্পের জন্য তারা রক্ষা পেয়েছেন। সংকট থাকায় রোগীদের ঝুঁকিপূর্ণ বেডে তুলতে হচ্ছে।
ওই ওয়ার্ডের ইনচার্জ আসমা বিশ্বাস বলেন, শুধু ওয়ার্ডে নয়, স্টোররুমের অবস্থাও একই। একটু বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ভিজে যায়।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শুভ্রারানী দেবনাথ বলেন, ‘মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের ছাদের বেহাল দশা হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রকৌশলীরা দেখে গেছেন। দ্রুতই কাজ শুরু হবে।’

আরও পড়ুন