মণিরামপুরে নারী সহকর্মী পেটালেন শিক্ষককে

আপডেট: 10:21:12 09/08/2018



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরের গৌরীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী ও দুই নারী সহকর্মীর হাতে আবু সাদত মারুফ হাসান (৩৬) নামের এক শিক্ষক মারপিটের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, রুটিন অমান্য করে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় তাকে মারপিট করা হয়।
এই ঘটনায় এলাকাবাসীসহ অভিভাবকরা ফুঁসে উঠেছেন। তারা অভিযুক্ত দপ্তরি, দুই শিক্ষিকা ও ‘তাদের মদদদাতা’ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে এসে বিক্ষোভ করেন।
মারপিটের শিকার শিক্ষক মারুফ জানান, চলতি মাসের ছয় তারিখ থেকে প্রাথমিক স্তরের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিতি’ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। এই সময়ের আগে স্কুল থেকে চা পানের অজুহাতে এক কিলোমিটার দূরে স্থানীয় নেংগুড়াহাট বাজারে যান প্রতিষ্ঠানের প্রধান আনারুল কবীর। এদিকে রুটিন অমান্য করে আধাঘণ্টা আগে বেলা ১২টায় শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দিয়ে দেন শিক্ষক মর্জিনা ও রিজিয়া। বিষয়টি শিক্ষক মারুফ সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিইও) হায়দার আলীকে মোবাইলে জানান। পরে হায়দার আলীর ফোন পেয়ে স্কুলে আসেন আনারুল কবীর। আবার বিকেল তিনটার দিকে তিনি স্কুল ছেড়ে চলে যান। এরপর এটিইও-কে ফোন দেওয়ার অপরাধে মারুফকে অফিসে ডেকে দরজা বন্ধ করে পিওন শরিফুল মারপিট করেন। এসময় শিক্ষক রিজিয়ার সহযোগিতায় অপর শিক্ষক মর্জিনা মারুফকে জুতাপেটা করেন।
মারুফ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক আনারুল কবীর ইচ্ছামতো স্কুলে আসেন আর যান। ঠিকমতো ক্লাস নেন না। ক্লাসে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। আপনারা স্কুলে আসলে সব জানতে পারবেন। ’
স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের মধ্যে বহুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ সবাই একপক্ষের। তারা সবাই মারুফের বিরোধী।
এদিকে, পিওনের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসীসহ অভিভাবকরা স্কুলে আসেন। তারা দোষী শিক্ষক ও কর্মচারীর শাস্তি দাবি করেন। এসব কারণে আজ বৃহস্পতিবারও যথাসময়ে স্কুলটিতে পরীক্ষা শুরু হয়নি। সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে বাড়ি ফিরে গেছে। পরে তাদের ডেকে এনে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
ঘটনাটি উপজেলা শিক্ষা অফিস জানলেও এই বিষয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মফিজুর রহমান বলেন, ‘‘খবর পেয়ে সকালে আমি স্কুলে গিয়ে শুনি দপ্তরি শরিফুল শিক্ষক মারুফকে মারপিট করেছে। অভিভাবকরা বলছেন, ‘শিক্ষকরা সবাই এলাকার। এদের এখান থেকে বদলি না করলে স্কুলে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসবে না।’’
এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক আনারুল কবীর বলেন, ‘পিওন শরিফুল ওনাকে মারেননি, মারপিট করেছেন দুই শিক্ষিকা।’
 তিনি মোবাইলে এরবেশি কিছু জানাতে চাননি।
জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার হায়দার আলী বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। আর মারুফকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে তার কাছে লিখিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। লিখিত পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন