মণিরামপুরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে গুরুতর ভুল

আপডেট: 02:30:35 21/07/2016



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুর পৌরসভা বালিকা বিদ্যালয়ের চলতি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে গুরুতর ভুল ধরা পড়েছে। এতে পরীক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভুলের জন্য প্রধান শিক্ষককে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক।
অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে বুধবার মণিরামপুর পৌরসভা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষা পরীক্ষা (বিষয় কোড-১৪৭) ছিল। এই বিষয়ে ৫০ নম্বরের সৃজনশীল, ২৫ নম্বরের বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) ও ২৫ নম্বরের ব্যবহারিক মার্কস রয়েছে।
পরীক্ষার্থীরা জানায়, যথাসময়ে প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে উত্তর লেখা শুরু করে তারা। এর কিছু সময় পর তারা দেখতে পায়, বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্নপত্রে শারীরিক শিক্ষার পরিবর্তে পৌরনীতি বিষয়ের প্রশ্ন করা হয়েছে। এটা দেখে মাথায় হাত ওঠে পরীক্ষার্থীদের। একপর্যায়ে তারা পরীক্ষাকক্ষে হই চই শুরু করে। তখন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষিকা রেহেনা খাতুন তাদের জানান, প্রশ্ন তিনি করেননি, করেছেন প্রধান শিক্ষক।
পরীক্ষার্থীরা জানায়, তাদের হই চই শুনে পরীক্ষা কক্ষে আসেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক। তিনি পরীক্ষার্থীদের ধমক দিয়ে যে প্রশ্ন আছে তার উত্তর লেখার নির্দেশ দেন। প্রধান শিক্ষকের এমন কথা শুনে হতভম্ব হয়ে যায় পরীক্ষার্থীরা। তখন শিক্ষিকা রেহেনা তাদের বলেন, ‘যা পারো তাই লেখো, খাতাতো আমি দেখব, পরে সব ঠিক করে দেব।’ পরীক্ষার্থীরা শিক্ষিকার এই আশ্বাসে শান্ত হয়।
একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, শুধু এটিই নয়, নানাবিধি অভিযোগ রয়েছে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন মনে করেন।
প্রশ্নপত্রে গুরুতর ভুলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ হন। তিনি বলেন, ‘আপনাকে জবাব দিতে বাধ্য নই।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকরাম হোসেন খান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার অফিসে এসে বিষয়টি দেখব।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘বিষয়টি জানলাম। তদন্ত করে সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন