মণিরামপুরে ফুলকপি চাষিদের মাথায় হাত

আপডেট: 07:59:56 08/01/2017



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের রাজগঞ্জ এলাকার হানুয়ার গ্রামের চাষি খলিলুর রহমান (৫০)। এসএসসি পাশ এই ব্যক্তি অনেক দিন ধরে দোঁদাড়িয়া বিলে সবজি চাষ করেন। প্রায় প্রতি মৌসুমেই তিনি সাত বিঘা জমিতে সবজি লাগান। এবার তার মধ্যে দেড় বিঘাতে রয়েছে ফুলকপি।
এই মৌসুমে ফুলকপি চাষ করে খলিলুর চরম ক্ষতির শিকার হয়েছেন। পুরো ১৫ কাঠা জমিতে এক হাজার ৬০০ কপির একটিও বিক্রি করতে পারেননি। ফলে ক্ষতির শিকার হয়েছেন প্রায় অর্ধ লাখ টাকার। বাজারে ফুলকপির দাম নেই বললেই চলে। প্রতি পিচ কপির পাইকারি দর দুই টাকা। তাই বহন খরচও উঠবে না বলে তিনি তা বাজারে তোলেননি। ফলে সব কপি ক্ষেতে নষ্ট হচ্ছে তার।
খলিলুর রহমান বলেন, ‘‘অনেক আগে থেকেই সবজি চাষের প্রতি আগ্রহ আমার। মাঝে আট বছর সৌদি আরবে ছিলাম। সেখান থেকে ফিরে দোঁদাড়িয়া মাঠে সাড়ে সাত বিঘা জমিতে সবজি চাষ করি। আর ফুলকপির চাষ করছি ২০০৬ সাল থেকে। তবে এবারের মতো কোনো বছর ক্ষতির সম্মুখীন হইনি। এবার আলাদাভাবে ১৫ কাঠা জমিতে ‘স্নোবক্স’ ও ১৪ কাঠা জমিতে সিনজেনটার ‘চমক’ ফুলকপির চারা লাগিয়েছি। স্নোবক্স পৌষ মাস অর্থাৎ এখন উঠছে; যার কোনো দাম পাচ্ছি না।’’
খলিলুর আক্ষেপ করে বলেন, ‘১৫ কাঠা জমিতে ১২ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। বাজারে দাম নেই। একমণ কপি রাজগঞ্জ বাজারে নিতে ৪০ টাকা পরিবহন খরচ। আর বাজারে একমণ কপির দাম ৩০ টাকা। তাই খরচের টাকা উঠবে না বলে কপি বাজারেই তুলিনি।’
তবে বাকি ১৪ কাঠা জমিতে লাগানো সিনজেনটার ‘চমক’ ফাল্গুন মাসে বাজারে তোলা যাবে। তখন কিছুটা দামে তা বিক্রি করে হয়তো বা ক্ষতি পোষাতে পারবেন বলে চাষি হাবিবুর আশা করছেন।
শুধু খলিলুর নন, ওই মাঠের কৃষক আব্দুল লতিফ মাস্টার, আকছেদ আলী, ওসমান গনি, আবদুস সাত্তার, কদর আলী, জিয়াউর ও মিজানুরের জমিতেও ফুলকপি একইভাবে পড়ে আছে। তারাও দাম না পাওয়ায় বাজারে তুলছেন না।
মাঝিয়ালী গ্রামের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন মুন্না চাকরির পাশাপাশি সবজি চাষ করেন। গত কয়েক বছরের মতো এবারো এক একর জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। বাজারে দাম নেই বলে তিনিও কপি তোলা বাদ দিয়েছেন। এবছরে ফুলকপি চাষে তার দুই লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুন্না মাস্টার।
মণিরামপুর পাইকারি কাঁচাবাজারের আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পরপর দুই বার টানা বৃষ্টিতে চারদিক ডুবে যাওয়ায় তরকারির দাম আকাশচুম্বি হয়েছিলো। অধিক লাভের আশায় এবার মণিরামপুরের চাষিরা বেশি করে সবজির চাষ করেছেন। ফলন বেশি হওয়ায় এবার ফুলকপির দাম নেই।’
‘এবছর ফুলকপি চাষির সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতাধিক’ উল্লেখ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত তরফদার বলেন, ‘শীতকালীন সবজির দাম তো সবসময়ই কম থাকে। তাছাড়া ফুলকপির ফলন এবার খুব বেশি। তাই দামটা একেবারেই কম।’
তবে যারা শীত মৌসুমের প্রথম দিকে বা শেষের দিকে ফুলকপি চাষ করেন তারা বেশ দামেই তা বিক্রি করতে পারেন বলে মত দেন এই কর্মকর্তা।
এদিকে ফুলকপির পাইকারি দর নিম্নমুখী হলেও বরাবরই খুচরা বাজারে তার দাম বেশি। মণিরামপুর খুচরা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, একেকটি ফুলকপির পাইকারি দর দুই টাকা হলেও কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা তা ৮-১০ টাকায় বিক্রি করছেন।

আরও পড়ুন