মণিরামপুরে বই উৎসববঞ্চিত সাড়ে দশ হাজার শিক্ষার্থী

আপডেট: 07:18:02 01/01/2017



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : তৃতীয় শ্রেণির বই আসেনি। তাই অন্য শিশু শিক্ষার্থীদের মতো উচ্ছ্বসিত হতে পারেনি মণিরামপুরের দশ হাজার ৪৩৩ শিশু শিক্ষার্থী।
‘বই পাবে না’ শুনে এসব শিশুকে মুখ গোমরা করে বাসায় ফিরতে দেখা গেছে। আবার অনেক শিশু বই না পেয়ে বাড়ি ফিরে কান্নাকাটি করেছে; যা সামাল দিতে অভিভাবকদের বেগ পেতে হয়।
বছরের প্রথম দিন বই পাবে ভেবে রোববার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্কুল চত্বরে ভিড় জমাতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুলে গিয়ে হাজির হয়েছে। কিন্তু কিছু শিশু বই না পাওয়ায় তাদের সঙ্গে অভিভাবকরাও হতাশ হয়েছেন।
উপজেলার প্রভাতী সরকারি বিদ্যাপীঠের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রাফি বই না পেয়ে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে কান্নাকাটি শুরু করে। তার সহপাঠীদের অবস্থাও ছিল একই।
প্রাথমিক স্তরের কয়েকজন শিক্ষক জানান, বই না আসায় ক্লাস থ্রির বাচ্চাদের হাতে বই দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে তারা সকলে মন খারাপ করে বাড়ি ফিরেছে। তবে দুই এক দিনের মধ্যে ওই বাচ্চারা বই পাবে বলে শিক্ষকরা আশা প্রকাশ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বই পায়নি।
মণিরামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার তৃতীয় শ্রেণির সব বই এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক বিষয়ের বই হাতে না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এসব বই দেশে ঢুকেছে। দ্রুতই বাচ্চাদের হাতে বই পৌঁছাবে।’
এদিকে, উৎসবমুখর পরিবেশে মণিরামপুরের ছয় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই উৎসব পালিত হয়েছে। রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহম্মদ অতুল ম-ল, পৌরসভার মেয়র আলহাজ কাজী মাহমুদুল হাসান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর জব্বার, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন খান, উপজেলা স্কাউটসের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বই বিতরণ উদ্বোধন করেন। এ সময় তৃণমূল জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে বই বিতরণ করেন।
উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, এবার উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্কুল, মাদরাসা, কিন্ডারগার্টেন ও এনজিও পরিচালিত মোট ৫৯৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৩ হাজার ৪৩৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে আট লাখ ৫৫ হাজার ২১৩টি বই বিতরণ করা হয়েছে।
নতুন বই হাতে পেয়ে মহাখুশি বইপ্রাপ্তি এসব শিক্ষার্থীরা। বইয়ের সোঁদা গন্ধে পুলকিত তাদের মন। শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পেয়ে নতুন উদ্যমে লেখাপড়া শুরু করার প্রত্যয় নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

আরও পড়ুন