মণিরামপুরে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের নামে দুই মামলা

আপডেট: 12:23:56 04/12/2017



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : নাশকতার উদ্দেশে গোপন বৈঠকের অভিযোগ এনে মণিরামপুরে বিএনপি-জামায়াতের ৪৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে পুলিশ। কথিত ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক দেখানো হয়েছে।
আটক পাঁচ জন হলেন, উপজেলার জলকর রোহিতা এলাকার আবু কালাম সরদারের ছেলে ইমরান হোসেন (২৫) ও মৃত আলী হোসেন খাঁর ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩০) এবং গাঙ্গুলিয়া গ্রামের মৃত মুন্সি গোলাম হোসেন গাজীর ছেলে আব্দুস সোবহান (৪৫), জয়পুর গ্রামের মজিদ সরদারের দুই ছেলে মুরাদ (২৫) ও আজাদ হোসেন (২৮)।
শনিবার থানার দুই এসআই তোবারক আলী ও এসআই মুন্সি আনিচুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দুটি করেছেন। একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৪ জনকে। অপরটিতে আসামি হয়েছেন ২১ জন।
পুলিশের দায়ের করা মামলার ঘটনাটি সাজানো বলে দাবি করছেন বিএনপি নেতারা। এমনকি মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারাও ঘটনাটি জানেন না বলে জানিয়েছেন।
এসআই মুন্সি আনিচুর রহমানের দায়ের করা এজাহারে বলা হয়েছে, ‘গত পহেলা ডিসেম্বর রাত আটটা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার রোহিতা হাইস্কুল মাঠের একটি পরিত্যক্ত ভবনে কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি নাশকতার মাধ্যমে দেশের চলমান শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করছিল। এসময় বাদী আনিচুর রহমান ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গেলে টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের পিছু ধাওয়া করলে আসামিরা ৪-৫টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ হাতেনাতে ইমরান হোসেন ও সাইদুল ইসলাম নামে দুইজনকে ধরে ফেলে। বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।’
বর্ণিত ঘটনায় শনিবার দুপুরে এসআই মুন্সি আনিচ বাদী হয়ে আটক দুইজনসহ ২১ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, উপজেলার বাগডোব গ্রামের মাওলানা দেলোয়ার হোসেন (৪৮), জলকর রোহিতা গ্রামের কারী আকবর হোসেন (৬০), হায়দার আলী (৩০), মুতালেব বিশ্বাস (৫০), মাজহারুল ইসলাম (২৫), বুলবুল হোসেন (৪০), শের আলী (৪৫), সাহেব আলী (৬০), ডা. নজরুল ইসলাম (৪৫), আতাউর রহমান (৪৫), রোহিতা শেখপাড়ার মাস্টার নুর ইসলাম (৫০), মান্নান মীর (৩৮), এড়েন্দা গ্রামের আরিফুল ইসলাম (৩৫), রেজাউল মেম্বার (৪৫), একলাস (৪০) ও রাজবাড়িয়া গ্রামের আবদুর রহিম (৪৫), আজগর আলী (৪৫) প্রমুখ।
এদিকে, অন্য এক এজাহারে বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যার পূর্বক্ষণে একই উদ্দেশ্যে উপজেলার জয়পুর গোপের বিলের ছমির সরদারের মাছের ঘেরের টংঘরে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে সেখানে যায় পুলিশ। ওই ঘটনায় হাতেনাতে তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে থানার এসআই তোবারক আলী বাদী হয়ে রোববার একটি মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৪ জনকে। এদের মধ্যে গাঙ্গুলিয়া গ্রামের মৃত মুন্সি গোলাম হোসেন গাজীর ছেলে আব্দুস সোবহান (৪৫) এবং জয়পুর গ্রামের মজিদ সরদারের দুই ছেলে মুরাদ (২৫) ও আজাদ হোসেনকে (২৮) আটক দেখিয়েছে পুলিশ।
এই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, খেদাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সামছুজ্জামান শান্ত (৪৫), চান্দুয়া গ্রামের মিজানুর রহমান (৪৫), শামিম (৩৬), হাদিউজ্জামান (৩৮), জয়পুর গ্রামের আব্দুর রহমান (৪৫), মুরাদ (৩০), হোসেন আলী (৪০), সমসকাঠি গ্রামের আইনুদ্দিন (৪০), ঢাকুরিয়ার তরিকুল ইসলাম (৩৮), হাসাডাঙ্গা গ্রামের মাসুদ (৩৭), হাফিজুর রহমান (৩৫), হারুন গাইন (৩৫), আমিনপুর গ্রামের রিপন (৩২), রিপন হোসেন (২৮) প্রমুখ।
তবে পুলিশের দায়ের করা দুই মামলায় উল্লেখিত বোমা বিস্ফোরণের কোনো ঘটনা আশপাশের লোকজন জানেন না বলে জানিয়েছেন। এমনকি রোহিতা এলাকার মামলার এক সাক্ষী বলছেন, ‘ঘটনার ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। আমি যে মামলার সাক্ষী তাও জানি না।’
মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী। মামলা দুটির কোন ভিত্তি নেই। এঘটনা পুলিশের সাজানো।’
মণিরামপুর থানার এসআই আনিচুর রহমান ও এসআই তোবারেক আলী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন