মণিরামপুরে ব্রিজ ধসে ভারি যান চলাচল বন্ধ

আপডেট: 09:25:57 04/04/2019



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুর-কালিবাড়ি সড়কে শ্রীনদীর উপর নির্মিত ব্রিজটির বড় অংশ ধসে পড়েছে। ফলে এর ওপর দিয়ে ভারি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
মণিরামপুর হয়ে অভয়নগর, ডুমুরিয়া ও খুলনা যোগাযোগের সহজ পথ হওয়ায় মণিরামপুর-কালিবাড়ি রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কের নেহালপুর বাজার-সংলগ্ন শ্রীনদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটি দিয়ে বাস, ট্রাক, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় মনোহরপুর, কপালিয়া, কুমারঘাটা, পাঁচাকড়ি, কালিবাড়ি, নেহালপুরসহ পূর্বাঞ্চলের মানুষের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা এই ব্রিজের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু ব্রিজটির বড় অংশ ধসে পড়েছে আজ।
উপজেলার দত্তকোনা গ্রামের ইজিবাইক চালক জাহাতাব হোসেন বলেন, ‘বাড়ি থেকে বেরিয়ে এই ব্রিজ পার হয়ে নেহালপুর বাজারে যাওয়া লাগে। যাত্রী নিয়ে ব্রিজ পার হতে হয়। বেশ আগে থেকেই ব্রিজটির অবস্থা খারাপ ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর হঠাৎ ট্রাক পার হতে গিয়ে ব্রিজটির মাঝখান ভেঙে নিচে পড়েছে। এখন আর পারাপার হওয়ার সুযোগ নেই।’
স্থানীয় রিপন হোসেন জানান, বছর খানেক আগে ব্রিজটির মাঝ বরাবর ধস নামে। তখন ইঞ্জিনিয়ার অফিস পুডিং দেওয়ার পর আবার ব্যবহার করা হচ্ছিল ব্রিজটি। এখন ব্রিজ ভেঙে যে অবস্থা, তাতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে। বিশেষ করে রাতে অচেনা পথচারীদের যাতায়াত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুস সাদত বলেন, অনেকদিন ধরে ব্রিজটির সমস্যা। আগে মাঝখানে অল্প ভাঙা থাকায় দুইধার দিয়ে গাড়ি চলাচল করতো। আজকে দুপুরের পর থেকে আর কোনো গাড়ি চলাচল করছে না।
তিনি আরো বলেন, আগেও কয়েকবার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইঞ্জিনিয়ারকে জানানো হয়েছে। শুধু ব্রিজ না, মণিরামপুর-কালিবাড়ি সড়টিরও বেহাল দশা। সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এসে সরেজমিন রাস্তা ও ব্রিজটি দেখে গেছেন। সড়ক ও ব্রিজের কাজ দ্রুত এক সঙ্গে শুরু হবে বলে জেনেছি।
মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ব্রিজটি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়েছে খবর পেয়েছি। অনেক আগ থেকে ব্রিজের সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জানেনইতো, সরকারি কাজ প্রসেসিং হতে সময় লাগবে।’
দ্রুত হেড অফিস থেকে সয়েল টেস্টের জন্য টিম আসবে বলে আশাবাদী এই কর্মকর্তা। তবে অস্থায়ীভাবে ব্রিজটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার মতো কোনো উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না বলে জানান আবু সুফিয়ান।

আরও পড়ুন