মণিরামপুরে ভুয়া নারী পরীক্ষার্থী ও শিক্ষকের সাজা

আপডেট: 06:20:32 07/02/2018



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে একটি মাদরাসা কেন্দ্রে অন্যের হয়ে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে স্বপ্না খাতুন পাখি (২৪) নামে এক নারীকে আটক করে দুই বছরের সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া আদালতকে ভুল তথ্য প্রদান করার অপরাধে আবু তৈয়ব (৩৮) নামে এক মাদরাসাশিক্ষককে এক বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত।
বুধবার বেলা ১২টার দিকে নেংগুড়াহাট দারুল উলুম সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান আদালত পরিচালনা করে তাদের এই সাজা দেন। বুধবার দাখিল বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা চলছিল।
স্বপ্না উপজেলার পাড়দীয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম দফাদারের মেয়ে। তিনি পাড়দীয়া মহিলা দাখিল মাদরাসার পরীক্ষার্থী সোনিয়া খাতুনের হয়ে দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। আর সাজাপ্রাপ্ত আবু তৈয়ব পাড়দীয়া মহিলা দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক। তিনি স্থানীয় ইউসুফ আলীর ছেলে।
আদালত মূল পরীক্ষার্থী সোনিয়াকে (রোল নম্বর-৩৩৭৬৪৭) তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করেছেন। একইসঙ্গে স্বপ্নাকে পরীক্ষার্থী সাজিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার কাজে সহযোগিতার অপরাধে পাড়দীয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মহিববুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করার জন্য নেংগুড়াহাট ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মাওলানা আব্দুর রউফকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত সাজাপ্রাপ্ত স্বপ্নার কাছ থেকে লিখিত স্বীকারোক্তিও নেন। যেখানে স্বপ্না তার এই অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করার জন্য পাড়দীয়া মাদরাসার সুপার মহিবুবুর রহমানকে দায়ী করেন। আর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই কেন্দ্রের ছয় নম্বর কক্ষের দুই পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন, নেংগুড়াহাট ফাজিল মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন ও হাজরাকাঠি মহিলা আলিম মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা জয়নাল আবেদীন।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাড়দীয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে সোনিয়া খাতুন। পাড়দীয়া মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা তার। সোনিয়ার পরীক্ষার কেন্দ্র হচ্ছে নেংগুড়াহাট দারুল উলুম সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা। কিন্তু পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন থেকে সোনিয়ার বদলে তার চাচাতো বোন স্বপ্না খাতুন পাখি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। স্বপ্না গত বছর পাড়দীয়া মাদরাসা থেকে দাখিল পাশ করেছেন।
এদিকে, একজনের বদলে আরেকজন পরীক্ষা দিচ্ছেন- এমন অভিযোগ পেয়ে বুধবার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা চলাকালে ওই কেন্দ্রে যান মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান। তিনি কেন্দ্রের ছয় নম্বর কক্ষে গিয়ে প্রথমে স্বপ্নাকে প্রশ্ন করেন। তারপর প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে স্বপ্নার চেহারার মিল খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রবেশপত্রের ছবি অস্পষ্ট হওয়ায় স্বপ্নাকে চিহ্নিত করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। তখন ওই কক্ষের পাড়দীয়া মাদরাসার অন্যান্য পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে তিনি নিশ্চিত হন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেয়েটি সোনিয়া না। এরপর পাশের কক্ষে দায়িত্বে থাকা পাড়দীয়া মাদরাসার শিক্ষক আবু তৈয়বকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে আদালতকে জানান, এই মেয়েটিই সোনিয়া। পরে অবশ্য স্বপ্না ও আবু তৈয়ব আদালতের কাছে সত্যতা স্বীকার করেন। এরপর আদালত স্বপ্নাকে দুই বছর ও শিক্ষক তৈয়বকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
এসময় রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী ও আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন ১৯৮০ এর ৩(খ) ধারায় স্বপ্নাকে দুই বছর ও শিক্ষক আবু তৈয়বকে ওই আইনের ১৩ ধারায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন