মণিরামপুরে মেম্বার আক্রান্ত, উত্তেজনা

আপডেট: 09:04:49 05/12/2017



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরের ডুমুরখালী দাখিল মাদরাসার অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের বিরোধে আব্দুল হাকিম নামে এক ইউপি সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে বের হওয়ার পর ওই চত্বরে তিনি হামলার শিকার হন। পরে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ডুমুরখালী এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১৭ ডিসেম্বর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের ডুমুরখালী দাখিল মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই লক্ষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেনের কার্যালয় থেকে আজ (মঙ্গলবার) ছিল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের শেষ দিন। গত ৩ তারিখ রোববার থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত মাদরাসার সদ্যবিদায়ী সভাপতি হাতেম আলী সরদার এবং গোলাম রসুলের নেতৃত্বে দুই প্যানেলে ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। এদের মধ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম মঙ্গলবার দুপুরে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে বের হওয়ার পরই উপজেলা চত্বরে হামলার শিকার হন। আগে থেকে অফিসের বাইরে অবস্থান নেওয়া কয়েক যুবক তাকে উপজেলা চত্বরে অবস্থিত পুকুর পাড়ে মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
এসময় উপজেলা চত্বরের সামনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
হামলার ঘটনায় মেম্বর আব্দুল হাকিম সদ্য বিদায়ী সভাপতি হাতেম আলী সরদারসহ তার ছেলে মনিরুজ্জামান মুকুলকে দায়ী করছেন।
এদিকে, মেম্বারের ওপর হামলার খবর ডুমুরখালী এলাকায় পৌঁছুলে তার পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিকেল থেকে ঝাঁপা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সঞ্জিতকুমার পুলিশ নিয়ে ডুমুরখালী এলাকায় অবস্থান নেন। সন্ধ্যা সাতটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
হামলার শিকার ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম বলেন, ‘বহুদিন ধরে দায়িত্বশীল পদে থেকে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। তারপরও জামায়াতের লোকবলে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে।’
সাবেক সভাপতি হাতেম আলী ও তার ছেলে মুকুল লোকজন দিয়ে তার ওপর হামলা করেছেন বলে দাবি এই মেম্বারের।
জানতে চাইলে মনিরুজ্জামান মুকুল বলেন, ‘মেম্বারের আচরণ ভালো না। তার কথাবার্তা উল্টাপাল্টা। তাই সে হামলার শিকার হয়েছে।’
হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন মুকুল।
জানতে চাইলে ঝাঁপা ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সঞ্জিত বলেন, ‘উত্তেজনার খবর পেয়ে এলাকায় আসি। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।’
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, ‘মনোনয়নকেন্দ্রিক হাতাহাতির ঘটনাটি ডুমুরখালী এলাকার দুই গ্রুপের রেষারেষি। এটি মামলা হওয়ার মতো কোনো ঘটনা না।’

আরও পড়ুন