মণিরামপুরে শিক্ষকের পিটুনিতে ৪ শিশু শিক্ষার্থী আহত

আপডেট: 02:20:55 26/07/2016



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুর রেসিডেন্সিয়াল ইনস্টিটিউটের সহকারী শিক্ষক মুরাদের বিরুদ্ধে বিনাকারণেই চার ছাত্রকে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে।
পিটুনির শিকার শিশু শিক্ষার্থীরা হলো, স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির মেহেদী হাসান বাপ্পী (৯), হাসিবুর রহমান (১০) এবং তৃতীয় শ্রেণির সাকিব হোসেন (৮) ও হুরায়রা (১০)। এদের প্রত্যেকের বাড়ি শহরের দুর্গাপুরে।
পিটুনির শিকার চারজনের মধ্যে বাপ্পীর আঘাত গুরুতর। শিক্ষকের মার খেয়ে গত দু’দিন ধরে সে জ্বরে ভুগছে। এঘটনার পর ওই চার ছাত্রের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর কথা ভাবছেন। পাশাপাশি তারা অভিযুক্ত শিক্ষক মুরাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় সুবর্ণভূমির সঙ্গে আলাপকালে তারা এসব অভিযোগ করেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শহরের দোলখোলা মোড়ে মণিরামপুর রেসিডেন্সিয়াল ইনস্টিটিউটের শিক্ষক মুরাদ প্রায়ই বিনাকারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করেন। রোববার চতুর্থ শ্রেণির গণিত ক্লাসে ঢুকে তিনি মাত্র এক মিনিটে একটি অংক কষে আনতে বলেন শিক্ষার্থীদের। শিক্ষকের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অংক করতে পারেনি ওই ক্লাসের বাপ্পী ও হাসিব। এই কারণে তিনি ওই দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটান। একই দিনে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা ও সমাজ ক্লাসে দাগ নম্বর সঠিকভাবে না দিতে পারায় সাকিব ও হুরায়রাকে পেটান।
বাপ্পীর মা রোজিনা বেগম বলেন, ‘শিক্ষক মুরাদ আমার ছেলেকে মারার পরপরই তার গায়ে জ্বর এসে যায়। ওই দিন সন্ধ্যার দিকে একবার তার বমিও হয়েছে। পরে ডাক্তার দেখিয়েছি। এখনও ছেলে অসুস্থ।’
তিনি আর ছেলেকে ওই স্কুলে পাঠাতে চান না বলেও জানান।
পিটুনির শিকার অন্যান্য ছাত্রের অভিভাবকদের বক্তব্য, মুরাদ মাস্টার প্রায়ই বাচ্চাদের পেটান। তার ভয়ে বাচ্চারা বিভিন্ন অজুহাতে ছুটি নিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি চলে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যাপক আলাউদ্দিন বলেন, ‘এসব শুনে আমি আজ স্কুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষক মুরাদ আমাকেও লাঞ্ছিত করেছে।’
এবিষয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনা আমিও শুনেছি। অভিভাবকদের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া চেষ্টা করছি।’
আর অভিযুক্ত শিক্ষক মুরাদ বিষয়টি বেমালুম অস্বীকার করেছেন।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ‘মঙ্গলবার অফিস আওয়ারে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত শিক্ষক মুরাদ হোসেন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনের ভাগনে।

আরও পড়ুন