মণিরামপুরে স্টুডিও কর্মীর ঝুলন্ত লাশ

আপডেট: 02:46:50 15/07/2017



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের মণিরামপুরে জয়ন্ত ঘোষ সবুজ (২৬) নামের এক স্টুডিও কর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে পরিবারের লোকজন সবুজের শোয়ার ঘরের ফ্যানের সাথে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এর পরপরই খবর পেয়ে থানার ওসি মোকাররম হোসেন ঘটনাস্থলে গেছেন। রাতেই পুলিশ সবুজের লাশ উদ্ধার করে থানায় এনেছে। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ সবুজের লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
সবুজ পৌর এলাকার হাকোবার তপনকুমার ঘোষের ছেলে। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য।
ব্যক্তিগতগত জীবনে সবুজ বিবাহিত; তার স্ত্রী ও একটি মেয়েশিশু রয়েছে। সে মণিরামপুর বাজারের বৈশাখী স্টুডিওতে ভিডিওর কাজ করতো। সে নিজের ব্যবহৃত গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
সবুজের বাবা তপনকুমারসহ স্বজনরা জানান, কয়েকদিন ধরে সবুজের মা যশোরে মেয়ের বাসায় ডাক্তার দেখাতে গেছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে সবুজ তার স্ত্রী ও মেয়েকে যশোরের খড়কি এলাকায় ফুফু শাশুড়ির বাড়িতে দিয়ে আসে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সবুজ ও তার বাবা মণিবারমপুর বাজারে যান। বাবা তপনকুমার বাড়ি ফেরেন রাত ১০ টার দিকে। তিনি বাড়ির বাইরের গেটের তালা খোলা দেখে ভাবেন ছেলে বাড়িতে ফিরেছে। বাড়ির গেট ভেতর থেকে আটকানো দেখে অনেকবার ধাক্কাধাক্কি করে ছেলেকে ডাকেন তিনি। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় তপনকুমার তার ভাইকে প্রাচীরের ওপর দিয়ে ভেতরে পাঠান। এরপর গেট খুলে দিলে তিনিও ভেতরে ঢোকেন। ভেতরে ঢুকে ছেলের শোয়ার ঘরে ফ্যানের সাথে সবুজের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।
এদিকে, সবুজের মা কল্পনা ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, তার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন,ছেলের সাথে অনেকেরই শত্রুতা আছে। তবে তিনি এখনই সাংবাদিকদের কিছু জানাতে চান না।
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, ‘এই ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না পেলে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
সবুজকে কেউ হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখতে পারে এমনটি মনে হচ্ছে কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন,‘আপাতদৃষ্টিতে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি।’
তাছাড়া ছেলের বাবা বলছেন,সে আত্মহত্যা করেছে- জানান ওসি। 

আরও পড়ুন