মণিরামপুরে অজ্ঞাত প্রতিবন্ধী নারীর মৃত্যু

আপডেট: 04:57:17 19/03/2019



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে অজ্ঞাত বাক প্রতিবন্ধী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল পৌনে দশটার দিকে উপজেলার টেংরামারী সম্মিলনী হাইস্কুল গেটে পলিথিনের একটি খুপঢ়ি ঘরে তার মৃত্যু হয়।
গত তিন বছর ধরে তিনি ওই ঘরে অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘদিন একই স্থানে অবস্থান করলেও স্বজনদের কেউ তার খোঁজ নেননি। ফলে এলাকাবাসীর কাছে তার পরিচয় অজ্ঞাত রয়ে গেছে।
এদিকে খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (সার্বিক) সহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। নাম-পরিচয় না থাকায় পুলিশ ও এলাকাবাসী জানাজা শেষে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে স্থানীয় মসজিদ-সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে করেন। দাফনের যাবতীয় ব্যয় বহন করেছেন থানার ওসি।
এসময় খেদাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক, খেদাপাড়া ক্যাম্প পুলিশের আইসি এসআই সালাউদ্দিন, টুআইসি জয়ন্তকুমার সরকার, স্থানীয় ইউপি সদস্য তাইজুল ইসলাম মিলন, সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
খেদাপাড়া ক্যাম্প পুলিশের আইসি এসআই সালাউদ্দিন বলেন, ‘সকালে খবর পেয়ে থানার ওসিসহ আমরা ঘটনাস্থলে যাই। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত তিন বছর ধরে ওই নারী টেংরামারী স্কুল গেটে অবস্থান করছিলেন। স্বজনদের কোনো খোঁজখবর না থাকায় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় জানাজা শেষে স্থানীয় মসজিদ-সংলগ্ন কবরস্থানে ওই নারীকে দাফন করা হয়েছে।’
এসআই সালাউদ্দিন বলেন, ‘দাফন কার্যের সব ব্যয় ওসি স্যার নিজে বহন করেছেন। আগামী শুক্রবার স্থানীয় মসজিদে মরহুমের আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। ওসি স্যার সেখানে উপস্থিত থাকবেন।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য তাইজুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘তিন বছর আগে এক রাতে অজ্ঞাত ওই নারী টেংরামারী বাজারে আসে। প্রথম কয়েক মাস বাজারেই থাকতো সে। টেংরামারী আসার কয়েক মাস পর অচল হয়ে পড়ে ওই নারী। পরে স্থানীয়রা টেংরামারী হাইস্কুল গেটের বিপরীতে একটি পলিথিনের চালা করে ওই নারীকে থাকতে দেন। স্কুলের আশপাশের নারীরা বা বাজারের লোকজন মাঝে মধ্যে তার খাবারের ব্যবস্থা করতো। মঙ্গলবার সকালে সেই চালায় ওই নারীর মরদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী।’
মেম্বর বলেন, গত তিন বছরে স্বজনদের কেউ ওই নারীর খোঁজ নেননি। ফলে তিনি কোথা থেকে এসেছেন, বাড়ি কোথায় বা ঠিকানা কী- কিছুই জানা যায়নি।

আরও পড়ুন