মণিরামপুর উপজেলা চত্বর কি ঝুঁকিমুক্ত!

আপডেট: 01:44:00 07/09/2019



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : এডিস মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ যখন সচেতন হচ্ছেন, রাখছেন বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার, ধ্বংস করছেন এডিস মশার আবাসস্থল, ঠিক তখনই ভিন্ন চিত্র চোখে পড়েছে মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে।
এই চত্বরের বিভিন্ন এলাকায় জমে আছে বৃষ্টির পুরনো পানি, পড়ে আছে বর্জ্য, হয়ে আছে বড় বড় ঝোঁপঝাড়। সরেজমিন উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরে পড়লেও তা যেন নজরে পড়ছে না সংশ্লিষ্ট কারো।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের সামনে হয়ে আছে জঙ্গল, রাস্তায় গর্তে জমে আছে বৃষ্টির পানি, পরিসংখ্যান অফিস চত্বরও ভরে আছে জঙ্গলে। ওই অফিসের সামনের অংশে রাস্তার দক্ষিণে একটি গর্তে জমে আছে বৃষ্টির বহু পুরনো পানি, তার পাশে মহিলা বিষয়ক নতুন অফিসের পেছনে হয়ে আছে বন-জঙ্গল। একটি বাড়ি একটি খামার অফিসের পিছনের পুকুরটি জঙ্গলে ভরা, কৃষক প্রশিক্ষণ অফিসের সামনের-পেছনের চিত্র একই। এই অফিসের পেছনে নিচু জায়গায় জমে আছে বৃষ্টির পানি। উপজেলা চত্বরে অবস্থিত শহীদ মিনারের পশ্চিম অংশে রয়েছে ঝোঁপঝাড়। আর উপজেলা ফুড গোডাউনের সামনে রাস্তার পাশে জমে আছে ময়লার বড়বড় স্তূপ। একই চিত্র তুলা উন্নয়ন অফিসের সামনেরও। যদিও একমাস আগে অনেকটা ঢাকঢোল পিটিয়ে এই এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলেছিল ইউএনওর নেতৃত্বে। তবে বর্তমান অবস্থা দেখে অনেকেই মনে করছেন, সেটা ছিল আইওয়াশমাত্র।
এদিকে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের সামনে গর্তে জমে থাকা পানির ব্যাপারে কয়েকদিন আগে ইউএনও-কে জানানো হয়েছিল। তিনি তখনই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। যদিও সেই গর্তে এখনো পানি জমে আছে।
শুক্রবার সকালে ছবি তুলতে গেলে কথা হয় প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে। এসময় তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরের এমন চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কাজকে ‘আইওয়াশ’ বলে অভিহিত করেন।
এদিকে, মণিরামপুর উপজেলাকে ডেঙ্গুমুক্ত করতে ইতিমধ্যে সব ইউনিয়ন, ওয়ার্ড বা মহল্লায় সচেতনতা সভাসহ পরিচ্ছন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে। অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ইউএনও নিজেও ছুটছেন বিভিন্ন এলাকায়। অনেক এলাকায় চেয়ারম্যানদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে চলছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, চলছে এডিসের লার্ভা ধ্বংসে ওষুধ ছিটানোর কাজ। তবে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে এখনো এমন অভিযান শুরু হতে দেখা যায়নি।
উপজেলা পরিষদে নিয়মিত সেবা নিতে আসা অনেকেই বলছেন, শুধু গ্রাম এলাকা পরিষ্কার করলে হবে না, পরিষদ চত্বরও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। অন্যথায় এখানে সেবা নিতে আশা লোকজন এডিস আক্রান্ত হলে তাদের মাধ্যমে গ্রামগঞ্জে ছড়াতে পারে ডেঙ্গু।
এবিষয়ে জানতে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, এই ব্যাপারে ইউএনওর সাথে কথা বলে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন