মধুমতিতে আবার বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার

আপডেট: 02:24:57 21/12/2017



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : লোহাগড়ায় মধুমতি নদীতে কোনোভাবেই থামছে না আড়াআড়ি বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার।
গতবছর ১৯ নভেম্বর উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রামকান্তপুর এলাকায় মধুমতি নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ বেড়া উচ্ছেদ করেন তৎকালীন ইউএনও ও নির্বাহী হাকিম মো. সেলিম রেজা। এবছর ঠিক একই স্থানে আগের মতো নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করছেন একই ব্যক্তিরা।
মৎস্য সংরক্ষণ আইনে বলা হয়েছে, নদীতে বাঁশের বেড়া স্থাপন করে পানি প্রবাহে বাধা দিয়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু এ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লোহাগড়ায় মধুমতি নদীতে বাঁশের বাঁধ দিয়ে অবাধে চলছে মাছ শিকার। স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের এবছর কোনো তৎপরতা দেখেননি এলাকার মানুষজন। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মাছের বংশ বিস্তার।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি জানলেও অজ্ঞাত কারণে নীরব রয়েছেন। ফলে এলাকার অসাধু লোকেরা সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, শালনগর ইউনিয়নের রামকান্তপুর এলাকায় মধুমতি নদীর পাড় থেকে শুরু করে অন্তত ৮০০ ফুট লম্বা আড়াআড়িভাবে নদীর মাঝ বরাবর বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। বেড়ায় প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০টি বাঁশ পোঁতা হয়েছে। বেড়ার সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে জাল পাতাসহ চারটি নৌকা বাঁধা রয়েছে। একটি নৌকা নিয়ে দুই জেলে জাটকা ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত। এ সময় স্থানীরা অভিযোগ করে বলেন, ওই বেড়ার কারণে নদীতে পণ্যবাহী নৌযান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে।
রামকান্তপুর গ্রামের কয়েক বাসিন্দা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘টিভিতে দেখি জাটকা ধরলে জেল ও জরিমানা হয়। কিন্তু প্রায় এক মাসের অধিক সময় ধরে এই এলাকায় নদীতে কারেন্ট জাল, খেতা জাল এমনকি আড়াআড়িভাবে বেড়া দিয়ে জেলেরা মাছ ধরছে। মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রণজিতকুমার বলেন, ‘মৎস্য সংরক্ষণ আইনের ১৯৫০ সালের ৩ ধারা মোতাবেক এই কাজ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে আমরা অতি দ্রুত বেড়া উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ইতিমধ্যে জেলেদের বাঁধ ওঠানোর জন্য নোটিস জারি করা হয়েছে। শিগগির বাঁধ উচ্ছেদ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, ‘নদীতে এভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণ অবৈধ। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন